প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:২৪ পিএম

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট বাজারে একটি আবাসিক মেস থেকে বিল্লাল হোসেন (২৯) নামে এক এনজিও কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ধাপেরহাট দক্ষিণবন্দর এলাকায় টিন কাদের সরকারের চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এসকেএস এনজিওর মেস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিল্লাল হোসেন পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার কামাতপাড়া দেবনগর গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে। তিনি প্রায় দুই মাস আগে এসকেএস এনজিওর ধাপেরহাট শাখায় সহকারী ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের এরিয়া ম্যানেজার মাসুদুর রহমান।
সহকর্মীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সবাই নিজ নিজ বাসায় চলে যান। তবে বিল্লাল অফিসের আবাসিক কক্ষে একাই অবস্থান করছিলেন। দুপুরে এক সহকর্মী অফিসের মোটরসাইকেলের চাবি নিতে গেলে দরজা বন্ধ পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদকে জানান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ স্বপন সরকার ও এসআই সুপদ রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, গামছার এক প্রান্ত সিলিং ফ্যানে বাঁধা এবং অপর প্রান্ত বিল্লালের গলায় পেঁচানো অবস্থায় তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, গামছা ছিঁড়ে যাওয়ায় তিনি মেঝেতে পড়ে যান। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এসআই সুপদ রায় বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ স্বপন সরকার বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিল্লাল আত্মহত্যা করেছেন। সিলিং ফ্যানে গামছা বেঁধে গলায় পেঁচানোর পর গামছা ছিঁড়ে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”
সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজ উদ্দিন খন্দকার বলেন, “ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পারিবারিক সমস্যার কারণে মানসিক চাপে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে