প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৩০ AM

রংপুর বিভাগ তিস্তা নদী রক্ষায় উত্তাল হয়ে উঠেছে। ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিস্তা নদীর ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে একযোগে মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচি পালিত হয়।
রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলা—লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১১টি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন লক্ষাধিক মানুষ। তাদের মূল দাবি ছিল তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ‘তিস্তা রক্ষা আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়ক, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, “তিস্তা শুধু রংপুরের নদী নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। মহাপরিকল্পনার কাজ অবিলম্বে শুরু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে রংপুর বিভাগকে অচল করা হবে।”
দুলু আরও বলেন, “তিস্তা এখন জাতীয় সমস্যা। সরকারের ধীরগতি ও অবহেলার কারণে নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি হবে।” তিনি নভেম্বরের মধ্যেই মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার আলটিমেটাম দেন এবং সতর্ক করেন, পরিকল্পনার বিরোধিতা মানেই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। প্রয়োজনে লংমার্চসহ কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।
মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ছাত্র ও যুবসমাজ। তাদের স্লোগান ছিল— “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা চাও!” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিস্তা রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম হাক্কানী, লালমনিরহাট জেলা সমন্বয়ক এ কে এম মমিনুল হক ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জানা গেছে, তিস্তা নদীর ভাঙন ও চর জাগার কারণে গত কয়েক মাসে লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষিজমি, বসতভিটা বিলীন হয়েছে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের নেতারা নদীর ড্রেজিং, বাঁধ নির্মাণ ও পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। এর আগে রংপুর ও লালমনিরহাটে গণমিছিল, পদযাত্রা, গণসমাবেশ এবং স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ