প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:০৯ AM আপডেট: ১৫.১০.২০২৫ ৬:১২ এএম

ফাইল ছবি
বাবার বাড়ির ১০ কাঠা সম্পত্তি স্বামীকে লিখে না দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা করে ফ্রিজে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর কলাবাগানে এমন ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
নিহতের ভাই বলেন, “আমার বোনের স্বামী আগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। বর্তমানে তিনি কিছুই করেন না। তিনি আমার বোনকে চাপ দিতে থাকেন আমাদের গাজীপুরের পূবাইল এলাকা থেকে তাকে ১০ কাঠা জমি লিখে দিতে হবে। আমরা তাকে সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি ছিলাম না। বলেছি– তিন ভাগ্নি ও আমার বোনকে পাঁচ কাঠা জায়গা লিখে দেব। কিন্তু তিনি সেটা মানেননি।”
গতকাল (সোমবার) সকালে তিনি আমার দুই ভাগ্নিকে জানান তাদের মা (তাসলিমা) অন্য আরেকজনের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। বলেন, তোমরা খুঁজে দেখো, তোমাদের মা বাসায় নাই। সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর নজরুলের রুমে গিয়ে আমার বড় ভাগ্নি রক্ত দেখতে পায়। এরপর তিনি বাচ্চা দুটোকে তাদের ফুফুর বাসায় রেখে আসে।
গতকাল দুপুর ২টার দিকে তাদের ফুফু আমাকে ফোন দিয়ে জানান, আপনার বোনের মনে হয় কোনো সমস্যা হয়েছে, দ্রুত ঢাকায় আসেন। আমি গাজীপুর থেকে বিকেলের দিকে এসে আমার দুই ভাগ্নিকে নিয়ে কলাবাগান থানায় যাই। এরপর পুলিশ বাসায় যায়।
বাসার দরজা বন্ধ ছিল। সেটি দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও আমার বোনের স্বামী বা আমার বোন কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ফ্রিজ খোলার পর দেখা যায় অনেকগুলো মাছ-মাংসের নিচে লাশ লুকানো রয়েছে। এটা দেখার পর আমি বেহুঁশ হয়ে যাই।
এ ঘটনাায় হওয়া মামলার বাদী তাসলিমা আক্তারের ছোট ভাই নাঈম হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালে পারিবারিকভাবে নজরুল ইসলামের (৫২) সঙ্গে আমার বোনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে নাজনীন আক্তার (১৯), নাজিফা ইসলাম (১৪) এবং নিশাত আনজুম (৫) নামে তিন কন্যা রয়েছে। বিগত পাঁচ-ছয় বছর যাবৎ নজরুল ইসলাম পারিবারিক কলহের কারণে আমার বোনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে একাধিকবার আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
গত জুন মাস থেকে নজরুল ইসলাম ঢাকায় তার বাসায় আমার বোনকে বন্দি করে রাখে এবং নির্যাতন করে। আমাদের পরিবারের সঙ্গে বোনকে এবং তার কন্যাদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর বোনজামাই নজরুল ইসলাম আমাদের পূবাইলের বাড়িতে এসে বোনের নামে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি তার নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমরা তাতে অসম্মতি জানালে সে রাগ করে পরিবারসহ ঢাকায় ফিরে যায় এবং পরে বোন ও ভাগ্নিদের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে দেয়নি। বোনকে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে তাকে কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দিত না। এমনকি ঘরের বাইরে গেলে বাইরে থেকে দরজা লক করে যেত।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, “আমরা গতকাল রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসায় থাকা ডিপ ফ্রিজ থেকে হাত-পা মুখ বাঁধা অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করি। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠাই। ঘটনার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে ধরার জন্য আমাদের অভিযান চলছে।”
এদিকে নিহতের ভাই শাস্তি দাবি করে বলেন, “জমি তার নামে লিখে না দেওয়ার কারণেই আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে ডিপ ফ্রিজের মধ্যে রেখে দেয় তার স্বামী। আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”