প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৪২ পিএম

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের দিলালপুর এলাকায় পারিবারিক একটি কবরস্থানে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ৯ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে প্রকাশ্যে এ হামলা চালানো হয়। এতে কবরস্থানের সাইনবোর্ড, বেড়া ও পিলার ভেঙে ফেলার পাশাপাশি কবরের মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, দিলালপুর গ্রামের মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে আবদুর রহিম ও আবদুল হালিমসহ সাতজনের মালিকানাধীন জমিতে তাদের পূর্বপুরুষরা কবরস্থান তৈরি করেছিলেন। কবরস্থানটি দিলালপুর সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর কবরস্থানটি প্রাচীরের বাইরে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের নির্দেশে ও নুরুজ্জামান বদরুলের নেতৃত্বে কিছু বহিরাগত শিক্ষার্থী কবরস্থানে হামলা চালিয়ে সাইনবোর্ড ও পিলার ভেঙে ফেলে। এ সময় প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাশাপাশি পাশের বাড়িগুলিতেও হামলা ও ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটে।
কবরস্থানের পক্ষের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বিষয়টি নিয়ে অযথা বিরোধ তৈরি করেছেন এবং দুই পরিবারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করছেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও তিনি সমাধানে রাজি হননি।
ঘটনার পর নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমিনা সাত্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য সরকারি সার্ভেয়ার নিয়োগ দেন। কিন্তু পরিমাপ করতে গেলে প্রধান শিক্ষক সরকারি কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন বলেন, “বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের বাইরেও কিছু জায়গা বিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা আলোচনা হলেও বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।”
এদিকে, এই জমি নিয়ে মো. সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনসহ চারজনকে ওই নালিশি জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ