প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:০২ AM আপডেট: ১৪.১০.২০২৫ ৭:০৬ এএম

ফাইল ছবি
দুই বছর ধরে চলা গাজা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্দিবিনিময়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (১৩ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের শেষ ঘোষণা করেছেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে হামাস জীবিত ২০ জন ইসরাইলি জিম্মিকে রেড ক্রসের মাধ্যমে ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করেছে। পাশাপাশি মৃত জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তরও শুরু হয়েছে। এর বিপরীতে ইসরাইল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়ে পরিবারে ফেরত পাঠিয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জিম্মিদের গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করলে তেল আবিবের পরিচিত ‘হোস্টেজ স্কয়ারে’ (জিম্মি স্কয়ার) অপেক্ষমান হাজারো মানুষের মাঝে আনন্দ ও আবেগঘন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে গাজায় বন্দিবাহী বাস পৌঁছালে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের স্বাগত জানাতে অসংখ্য স্বজন কান্না ও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন।
এ সময় মধ্যপ্রাচ্য সফরে পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দিয়ে বলেন, আকাশ এখন শান্ত, বন্দুক নীরব, সাইরেন থেমে গেছে। অবশেষে পবিত্র ভূমিতে শান্তি ফিরতে শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধবিরতি ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য এক দীর্ঘ দুঃস্বপ্নের অবসান।
নেসেটে ভাষণ শেষে ট্রাম্প মিশরের শারম আল-শেখে আয়োজিত 'শান্তি সম্মেলনে' যোগ দেন। সেখানে মিশর, কাতার ও তুরস্কের নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে সই করে তিনি গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানান এবং টেকসই শান্তির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজের অঙ্গীকার করেন।
মিশরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, আলোচনায় গাজার প্রশাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুনর্গঠন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ট্রাম্প এই সমঝোতাকে সেরা চুক্তিগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেন এবং গাজা পুনর্গঠনের কাজ শুরুর ঘোষণা দেন।
তবে এই সম্মেলনে ইসরাইল ও হামাসের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেয়নি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলাপ করেন এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানান, যদিও এতে ইসরাইল আপত্তি জানিয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো