
গোপালগঞ্জে এনসিপি’র একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক হতদরিদ্র ভ্যানচালক আবু সাঈদ মোল্লা (২৩)। বর্তমানে তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অপরদিকে তার স্ত্রী সোনালী বেগম অসুস্থ ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান হুসাইনকে কোলে নিয়ে স্বামীর জামিনের জন্য আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
সোনালী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়, সে একজন নিরীহ ভ্যানচালক। গত ৫ আগস্ট ভ্যান ঠিক করার সময় পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর থেকে সে কারাগারে। এদিকে আমাদের সংসার চলছে না। আমি, আমার অন্ধ শাশুড়ি আর যমজ দুই শিশু নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’
তিনি আরও জানান, অর্থাভাবে চিকিৎসা না পেয়ে তাদের যমজ সন্তানের একজন, হাসান, গত ৪ অক্টোবর মারা যায়। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় (স্বামী) আবু সাঈদকে দুই ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় যেন তিনি ছেলের জানাজায় অংশ নিতে পারেন।
বর্তমানে বেঁচে থাকা অপর যমজ শিশু হুসাইন গুরুতর অসুস্থ, এবং শাশুড়ির অবস্থাও সংকটাপন্ন। সোনালী বেগম বলেন, ‘আমি হাইকোর্টে যাওয়ার মতো সামর্থ্য রাখি না। গোপালগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও জেলা ও দায়রা জজ আদালতেও আবেদন করেছি (ক্রিমিনাল মিস কেস নং: ১৩৭৫/২০২৫), কিন্তু জামিন হয়নি’।
তিনি প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন তার স্বামী আবু সাঈদকে দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি আরও জানিয়েছেন, যদি সে দোষী হয়, প্রমাণ হলে শাস্তি পাক। কিন্তু সে এখনো অভিযুক্তও নয়। অন্তত জামিন পেলে আমাদের পরিবার বাঁচত।
আবু সাঈদের বড় ভাই রবিউল মোল্লা বলেন, ‘আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। প্যারোলে মুক্তির সুযোগ দেওয়ায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। একইভাবে আমরা সরকারের কাছে তার জামিনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাই।’
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপি’র একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপীনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (নি:) আহমেদ আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: গোপালগঞ্জ সদর থানা ১৫/২৭৮, তারিখ: ১৭/০৭/২০২৫)।
এজাহারে ৭৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৫০-৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, যার মধ্যে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/৭/১০/১১/১২/১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৪২৭/৪৩৬/৫০৬ ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই মামলাতেই আবু সাঈদকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম