
রেস ট্র্যাকের মতো সাজানো মাঠে একের পর এক চোখধাঁধানো বাইক স্টান্ট। কেউ করছেন সার্কেল হুইলি, কেউবা ট্রাইস্ট, থ্রি-সিক্সটি কিংবা রোলিং স্টপি। চেইন স্ন্যাপ, বার্নআউট আর জিমখানায় যেন দেখা মিলছে বাইকারদের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের ছোঁয়া। ইঞ্জিনের গর্জন, টায়ারের ধোঁয়া আর দর্শকের করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল বগুড়ার চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনের প্রাঙ্গণ।
বাইক চালানো মানেই শুধু গতি নয়, নিয়ন্ত্রণই আসল শক্তি- এমন কিছু সচেতনতামূলক বার্তাই বগুড়ায় এসিআই মটরস-এর ইয়ামাহা'র আয়োজনে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ফিল দ্য রেভ’ শিরোনামের মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান।
বগুড়াসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, নওগাঁ, পাবনা ও জয়পুরহাটসহ দেশের প্রায় আট জেলা থেকে আগত বাইকাররা দেখিয়েছেন তাঁদের অনবদ্য দক্ষতা।
ইয়ামাহার বগুড়ার পরিবেশক ‘উত্তরা বাইক সেন্টার’-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজনে হেলমেট মাথায়, জ্যাকেট গায়ে, গর্জে উঠেছে একের পর এক ইঞ্জিন। প্রাণবন্ত এই আয়োজন নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘প্রয়োজনের তাগিদে একটি মোটরসাইকেল একজন চালকের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা দখল করে। কিন্তু সেই ভালোবাসায় থাকতে হবে শৃঙ্খলা। ‘ফিল দ্য রেভ’ শেখাচ্ছে- নিয়ন্ত্রণ হারানো নয়, নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই আসল দক্ষতা।’
এছাড়াও রোমাঞ্চের পাশাপাশি ছিল শেখার সুযোগও। জিমখানা ও টেস্ট রাইড সেশনে অংশ নিয়ে নতুনরা শিখেছেন ব্যালান্সিং, ব্রেকিং এবং কর্নারিং কৌশল। ইয়ামাহা শুধু মোটরসাইকেল বিক্রি করে না, বরং প্রতিটি ক্রেতাকে নিজেদের পরিবারের সদস্য করে একজন দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তোলে- যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
আয়োজন প্রসঙ্গে ইয়ামাহার সিনিয়র রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার কাজী সাঈফ বলেন, ‘অনেকে মনে করেন বাইক মানেই শুধু গতি। কিন্তু প্রকৃত রাইডার জানে, বাইক হলো অনুভূতি- যার প্রতিটি অংশে আছে যন্ত্রের সঙ্গে মানুষের বোঝাপড়া। আমরা চাই তরুণরা হোক দক্ষ, দায়িত্বশীল ও নিরাপদ রাইডার। ইয়ামাহা শুধু বাইক তৈরি করে না, তৈরি করে সেফ রাইডিং কালচার- এই আয়োজন তারই অংশ, যেখানে রোমাঞ্চ আর দায়িত্ব হাতে হাত রেখে চলে।’
উত্তরা বাইক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আবু মোত্তালিব মানিক বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হাজারো মানুষ প্রাণ হারান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এর অন্যতম কারণ- ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ে অদক্ষভাবে সড়কে বিচরণ করা। রোমাঞ্চ থাকবে, উচ্ছ্বাসও থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকতে হবে দায়িত্ব ও সচেতনতা। ফিল দ্য রেভ’ দেখিয়ে দিল- যখন রাইডাররা একসঙ্গে শেখে, তখন সড়ক হয় নিরাপদ, সমাজ হয় দৃষ্টান্ত। একটি সচেতন সিদ্ধান্ত রুখে দিতে পারে একটি বিশাল দুর্ঘটনা। এই আয়োজন তাই শুধু বাইকারদের উৎসব নয়, এটি দক্ষতার সঙ্গে নিরাপত্তার পথে হাঁটার আহ্বান।’
এ আয়োজনে বাংলাদেশে আসা ইয়ামাহার প্রথম ২৫০ সিসি মোটরসাইকেলের দক্ষতাও তুলে ধরেন বাইকাররা।
এদিকে, সবার জন্য উন্মুক্ত এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে আসা দর্শকরা জানান, এমন আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে রাস্তায় নয়, নিরাপদ ট্রেনিং গ্রাউন্ডে স্টান্ট শেখার প্রেরণা দেবে। অনেকের চোখে ছিল স্বপ্ন—একদিন তারাও হবেন এমন দক্ষ রাইডার, যিনি আনন্দ দেবেন, দুর্ঘটনা নয়।
প্রায় ৫ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে শেষ হয় এই আয়োজন, এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। শুক্রবার ছিল স্টান্ট শো, আর শনিবার অনুষ্ঠিত হয় শুধু জিমখানা ও টেস্ট রাইড সেশন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ইয়ামাহার সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার জাহিদ হোসেন, ডেপুটি রিজিওনাল ম্যানেজার (সার্ভিস) উত্তম কুমার দে, ডেপুটি মার্কেটিং ম্যানেজার রেজওয়ান উজ জামান এবং এসিআই মটরস-এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম