
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চাঁদপুর জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে নিরলস অভিযান চালিয়ে গেলেও জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চাঁদপুর ডিএনসি সূত্র জানায়, জেলার ৮টি উপজেলায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় একটি মাত্র জেলা কার্যালয় থেকে। সেখানে ২৬ জন জনবলের মধ্যে কেবল ১৮ জন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন মাত্র ২ জন সিনিয়র ইন্সপেক্টর ও ১ জন সাব-ইন্সপেক্টর। কিন্তু নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কর্মকর্তাদের ১২-১৫ দিন সময় ব্যয় করতে হয়। ফলে অভিযান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
এছাড়া মাত্র একটি গাড়ি ও একজন চালক দিয়ে পুরো জেলার অভিযান চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
চাঁদপুর জেলা ডিএনসি’র সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের দক্ষতা ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জনবল সংকটের কারণে মাদকবিরোধী অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য প্রতিটি উপজেলায় ১৫ সদস্যের একটি করে কার্যালয় অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। যদি এটি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে কার্যক্রম অনেক বেশি গতিশীল হবে।”
তিনি আরও জানান, আত্মরক্ষার্থে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় দুর্ধর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে অনেক সময় ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। ইতিমধ্যে অস্ত্র প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি মিলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চাঁদপুর ডিএনসি জানায়, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে জেলার বিভিন্ন স্থানে ৭২৫টি অভিযান পরিচালনা করে ৭২টি মামলা দায়ের ও ৭৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে ৭,৫১৫ পিস ইয়াবা, ৮ কেজি ৮৮০ গ্রাম গাঁজা, নগদ ২ লাখ ২৩ হাজার ৩০ টাকা, ৮টি মোবাইল ফোন ও মাদকসেবনের বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। জেলার হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা, লেডি দেহলভী, ডিএন, এম এম নুরুল হক, আইনগিরী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনসচেতনতামূলক সভা, অভিভাবক সমাবেশ এবং মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, “আমি ডিএনসি’র জনবল সংকট সম্পর্কে অবগত। বিভাগীয় সভাসহ ডিসি সম্মেলনেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি, শিগগিরই এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।”
চাঁদপুর ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম পেলে মাদকমুক্ত চাঁদপুর গড়ে তোলা আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে