
বান্দরবানে ভূমিদস্যুদের দখল থেকে বন বিভাগের প্রায় পাঁচ একর সরকারি জমি উদ্ধারে যুবদলের নেতৃত্বে আন্দোলনে নেমেছে স্থানীয়রা। এ উপলক্ষে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সুয়ালক এলাকার বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন সুয়ালক ইউনিয়ন ও বাজালিয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা। বক্তারা জানান, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রবেশপথসংলগ্ন এলাকাটি মূলত চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন সরকারি বনভূমি, যা একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া দলিল ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দখলে নিয়ে রেখেছে এবং বিক্রির চেষ্টা করছে।
তারা দাবি করেন, বান্দরবান সদরের একটি ভুয়া মৌজার কাগজে চৌহদ্দি জালিয়াতির মাধ্যমে জমিটি নিজেদের নামে দেখিয়ে দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। অথচ জমির অবস্থান চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে এবং তা সরকারি বনভূমি।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এ দখলবাজ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাতকানিয়া উপজেলা কৃষক লীগের পরিবেশ ও বন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর ছবুর (সাবেক মেম্বার) এবং তার সহযোগী হারুন, যিনি নিজেকে সাতকানিয়া থানার সোর্স পরিচয়ে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।
বিষয়টি জানার পর বান্দরবান জেলার ইউনিয়ন ও উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বনভূমি রক্ষার আন্দোলনে যোগ দেন। তাদের সক্রিয় উদ্যোগে প্রশাসন বর্তমানে দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
সুলতানপুর বনায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ‘প্রভাবশালী দখলবাজদের বিরুদ্ধে যুবদলের নেতারা যে সাহসী ভূমিকা নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
বান্দরবান জেলা যুবদলের নেতা কাজী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করছি। সরকারি সম্পদ ও বনভূমি রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন-জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাজীব, আলম শরীফ, শাহাব উদ্দিন, মোহাম্মদ ইকবাল, মোহাম্মদ ইলিয়াস ও মিজান প্রমুখ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম