প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:৩১ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ভোলায় তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) অফিস। ৩৪ টি পদের বিপরীতে মাত্র ১২ জন দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে কার্যক্রম। ফলে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা ক্রমশই কমে আসছে। গত দুই দশকে জেলায় ৫’শ এর বেশি সংযোগ কমে গিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
একসময় মানুষের দূর দূরান্তে যোগাযোগ রক্ষায় কথা বলার জন্য টেলিফোনই ছিলো প্রধান ভরসা। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণে ও মুঠোফোনের ব্যাপক জনপ্রিয়তায় এর ব্যবহার কমছে। ২০২৩ সালে বিটিসিএলের আকর্ষণীয় প্যাকেজে ইন্টারনেটসহ টেলিফোন সংযোগ জিপন সেবা চালু হলে গ্রাহক সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বিটিসিএলের পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করা যাচ্ছেনা। প্রতিষ্ঠানটির জেলা কার্যালয়ে মোট ২২ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৬জন। এছাড়া মনপুরা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সবকটি পদই শূন্য রয়েছে।
বিটিসিএলের গ্রাহক মশিউর রহমান পিংকু বলেন, “আমার বাসায় বিটিসিএলের ওয়াইফাই এবং টেলিফোন দুটোই রয়েছে। ভোলায় ঝড় বৃষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে বিটিসিএল সংযোগে প্রায় বিঘ্ন দেখা দেয়। লাইন মেরামত বা স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষকে জানালেও যথাসময় প্রতিকার পাওয়া যায়না।”
গ্রাহক আমিনুল ইসলাম বলেন, “কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিরিসিএলের গ্রাহকদের ভোগান্তি লেগেই থাকে। তাই কেউ কেউ টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।”
বিটিসিএল কার্যালয়ের কনিষ্ঠ ডাটা এন্ট্রি সহকারী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “লোকবল সংকট থাকার কারণে একাধিক কাজ করতে হয়। এতে করে নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট গ্রাহককে সেবা দেয়া যায়না। বিশেষ করে একজন লাইনম্যান দিয়ে একাধিক স্থানে কাজ করতে বেগ পেতে হয়। এছাড়াও নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের।”
বিটিসিএলের কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক (ট্রান্সমিশন) আশীষ কুমার সাহা বলেন, “জনবল সংকট ও পরিবহন সংকট বিটিসিএলের মূল সমস্যা। এর ফলে অনেক সময় জনগণের প্রত্যাশিত সার্ভিস দিতে আমরা পারছি না। তবে পর্যাপ্ত জনবল ও পরিবহন সুবিধা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহককে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।”
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক মো. পারভেজ বলেন, “বিটিসিএলের জেলা অফিসে ৬ জন লাইনম্যান থাকার কথা। সেখানে রয়েছে মাত্র ১ জন। আর মনপুরা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তাদের একজন লোকও নেই। অন্য উপজেলা থেকে লোক দিয়ে সেখানকার কার্যক্রম চালাতে হয়। ভোলা জেলায় গত ২ দশক আগে টেলিফোন সংযোগ ছিল ১৫’শ ৫০ টি। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩২টি।”
তিনি আরো বলেন, “২০২৩ সালে ভোলা সাদরে প্রথমবারের মতো হাই স্পিড ক্ষমতা সম্পন্ন জিপন সংযোগ চালু হয়। ব্যাপক গ্রাহক চাহিদা থাকলেও ৩ হাজার ৭২টি ক্যাপাসিটির বিপরীতে সংযোগ হয়েছে মাত্র ৯’শটি। সমগ্র জেলায় একটিমাত্র সংযোগ দেয়ার স্ল্পাইসিং মেশিন। উপজেলা পর্যায়ে কোনো লাইন মেরামত বা সংযোগ দিতে এই মেশিন নিয়ে গেলে জেলার কাজ বন্ধ থাকে।”