
আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবীণদের দীর্ঘদিনের দাপটকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন নবীন প্রার্থীরা। ভোটের মাঠে এবার অভিজ্ঞতা বনাম নতুনত্ব-এই দ্ব›দ্বই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির হাফ ডজন প্রার্থী, তবে সবারই গলার কাটা হিসেবে দাড়িয়েছে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ।
ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ার প্রধান ইস্যু সবসময়ই নদীভাঙন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন। এসব প্রশ্নকে ঘিরেই প্রার্থীরা গ্রামীণ জনপদে গণসংযোগ শুরু করেছেন। পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন অনেকে। হাতিয়ার রাজনীতি সবসময়ই উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এবার প্রবীণ নেতাদের চেয়ে নবীন প্রার্থীরাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘদিনের দাপট দেখানো প্রবীণদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন তরুণ প্রার্থীরা।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজিম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার রাজনীতির মাঠে সক্রিয় এবং স্থানীয়ভাবে একটি শক্তিশালী ভোট ব্যাংক ধরে রেখেছেন। দলে তার সাংগঠনিক প্রভাবও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শারীরীক ভাবে অসুস্থতার কারনে ভোট করতে পারা নিয়ে সন্দীহান অনেকেই। এবিষয়ে তিনি বলেন ১৯৯১ থেকে এই আসনের বিএনপির হাল ধরেছেন তিনি, একাধিক বার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আশা করেন দল তাকে এবারও মনোনয়ন দিবে এবং জনগনের ভোটে তিনি এমপি নির্বাচিত হবেন।
বিএনপির ভেতরে আরও কয়েকজন তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতা প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির চট্রগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেন, ‘তিনি বিএনপিকে শক্তিশালী করার জন্য মাঠে সভা সমাবেশ করছেন এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার জন্য চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
নবীনদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীব। তিনি ৫ই আগস্ট পূর্ববর্তী দলের দুঃসময় হাল ধরেন এবং সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের ৩১ দফা জনগনের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমি সভা, সমাবেশ, ওঠান বৈঠক করে যাচ্ছি। আমি নির্বাচনের আগে প্রতিটি এলাকায়, প্রতিটি গ্রামে যাওয়ার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মনোনয়ন বিষয়ে বলেন, মনোনয়ন আমাদের নেতা তারেক রহমান দিবে, আমাদের বিশ্বাস যার জনপ্রিয়তা আছে তিনি তাকে মনোনয়ন প্রদান করবেন।’
একই সঙ্গে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নাওয়াজ। এছাড়া বিএনপি নেতা শাখাওয়াত হোসেন ও আমিরুল মোমিন বাবলুর নামও শোনা যাচ্ছে।
এদিকে বিএনপির সকল প্রার্থীর গলার কাটা হিসেবে রয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এর প্রার্থী হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ। যদিও তুলনামূলকভাবে তিনি নতুন মুখ, তবে স্থানীয়ভাবে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকান্ড করতে পারায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি উপদেষ্টাদের সাথে কথা বলে দ্বীপের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙ্গা রোধে বরাদ্দ এনেছি, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। দ্বিপের মানুষ এতো অবহেলিত ছিলো, নিরব ছিলো। এবার তারা আমার মাধ্যমে প্রতিবাদী হয়েছে, নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই বদলানোর শপথ নিয়েছে। আশা করি সাংসদ নির্বাচিত হয়ে দ্বীপের মানুষের জন্য কথা বলতে পারবো।’
অন্যদিকে, ইসলামী রাজনীতির পক্ষ থেকে হাতিয়ায় আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী শাহবাগ পশ্চিম থানার সাবেক আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক। তিনি বলেন, ‘তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে এবং গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে একটি বড় অংশ তাকে সমর্থন করে আসছে।’
ইসলামী আন্দোলনের হয়ে মাঠে আছেন মাওলানা শরীফ ইসলাম (শরীফ) এবং জাতীয় পার্টির নবী উল্লাহ আসিফসহ একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। হাতিয়ার এক প্রবীণ সমর্থক বলেন, ‘প্রবীণ নেতাদের আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি। কিন্তু নতুনরা সাহসী ও ভিন্ন ধাঁচে কথা বলছে। এতে তরুণ ভোটাররা আকৃষ্ট হচ্ছে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন-এবার হাতিয়ার মূল লড়াইটা হবে প্রবীন বনান নবীনের।
প্রবীণদের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দাপট থাকলেও, নবীনদের তরুণশক্তি ও পরিবর্তনের বার্তা ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচনী মাঠে হাতিয়ার আসন এখন জমজমাট-প্রবীণরা মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে, আর নবীনরা ভবিষ্যৎ রাজনীতির সম্ভাবনা নিয়ে ভোটের মাঠ কাঁপাচ্ছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম