প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৪৮ পিএম

রাজবাড়ীতে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
রাজবাড়ীর পাংশায় স্বামী শহীদ মন্ডল হত্যা মামলায় স্ত্রী রহিমা খাতুন ও পরকীয়া প্রেমিক সোহেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জয়নাল আবেদীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুইজনই পলাতক ছিলেন।
সোহেল জেলার পাংশা উপজেলার কাজিয়ালপাড়া গ্রামের জিয়া উদ্দিনের ছেলে এবং রহিমা একই গ্রামের নিহত শহীদ মন্ডলের স্ত্রী।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ থেকে ১০ মার্চ রাত ২টার দিকে পাংশা উপজেলার কাজিয়ালপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল মন্ডলের ছেলে শহীদ মন্ডলকে তার স্ত্রী রহিমা খাতুন ও পরকীয়া প্রেমিক সোহেল শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী ২নং আমলী আদালতে শহীদ মন্ডলের ভাই শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোহেলসহ পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পাংশা মডেল থানায় রেকর্ড হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা রহিমা খাতুনকে গ্রেফতার করেন। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, বিয়ের আশ্বাসে পরকীয়া প্রেমিক সোহেলের কথামতো দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামী শহীদ মন্ডলকে খাওয়ান। পরে স্বামী ঘুমিয়ে পড়লে সোহেল ঘরে ঢুকে গামছা দিয়ে নাক-মুখ বেঁধে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সোহেল চলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি চিৎকার করে লোকজন জড়ো করেন।
রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চাঞ্চল্যকর শহীদ মন্ডল হত্যা মামলায় পরকীয়া প্রেমিক সোহেল ও স্ত্রী রহিমা খাতুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামিরা উপস্থিত ছিলেন না।