প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:০২ পিএম

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সদ্য পদায়নকৃত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. শামসুন্নাহারকে যোগদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের এক সিন্ডিকেট চক্র তাকে “দুর্নীতিগ্রস্ত” আখ্যা দিয়ে মব সৃষ্টি করে যোগদানে বাধা দেয়।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোছা. শামসুন্নাহার কর্মস্থলে যোগ দিতে আসলে মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. এম.এ হালিম লাবলুর নেতৃত্বে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বহিরাগতদের একাংশ মব তৈরি করে তার যোগদানে বাধা দেয়। তবে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী শামসুন্নাহারকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান, ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর সেনাবাহিনীর একটি টহল দল এসে শামসুন্নাহারকে নিরাপদে হাসপাতাল থেকে বাসায় পৌঁছে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিধি লঙ্ঘন করে টানা ছয় বছর একই কর্মস্থলে থেকে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. এম.এ হালিম লাবলু। স্থানীয় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। শামসুন্নাহারের মতো সততার জন্য পরিচিত একজন কর্মকর্তা পদায়নের খবর পেয়ে সিন্ডিকেটটি আন্দোলনের নামে বাধা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সূত্রের।
অভিযুক্ত ডা. এম.এ হালিম লাবলু বলেন, “আমি বর্তমানে হাসপাতালের চার্জে আছি। মোছাঃ শামসুন্নাহার আগের কর্মস্থলে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি যোগ দিলে এই হাসপাতালে অনিয়ম ও দুর্নীতি বাড়বে। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বপ্রণোদিত হয়েই আন্দোলন করছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
অন্যদিকে মোছাঃ শামসুন্নাহার বলেন, “ডা. লাবলুর নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেট ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগ তুলে আমাকে যোগদান থেকে বিরত রাখতে চাচ্ছে। আমি একজন সৎ কর্মকর্তা, আর আমি যোগ দিলে তাদের অনিয়ম বন্ধ হয়ে যাবে—এই ভয়ে তারা বাধা দিচ্ছে।”
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় মিটিংয়ে আছি। মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আন্দোলনের বিষয়টি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর