চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় দখল করে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছে জামায়াত ইসলামীর এক কর্মী।
একসময় বারইয়ারহাটে আওয়ামী লীগের সকল অপকর্ম পরিচালনা হতো এই কার্যালয় থেকে। পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন তালাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে জামায়াত কর্মী মো. নোমান ‘মাদরাসাতুল আবরার’ নাম দিয়ে একটি মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু করেন।
সম্প্রতি জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম পশ্চিমজেলা আওতাধীন বারৈয়ার হাট পৌরসভার আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন হাফেজ মাওলানা ক্বারী নোমান।
জানা গেছে, ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে নুরুল আবছার মিয়াজী থেকে ৫০ শতক জায়গা ও একটি টিনশেড ঘর সহ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন মসজিদুল আবরার। মসজিদুল আবরারের পক্ষে গ্রহীতা ছিলেন উক্ত মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ও অভিযুক্ত জামায়াত নেতার ভাই মো. সিরাজ। তবে সড়ক ও জনপথের জায়গা ক্রয় বিক্রয় করা যায় কিনা এবিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি তিনি।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে ওই মসজিদে কোনো কমিটি নেই। এই সুবাদে মসজিদের ইমাম মো. সিরাজ ও মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. নোমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মুয়াজ্জিন নিয়োগ নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।
ক্বারী নোমান নামের ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও
বারইয়ারহাট বোর্ড অফিস মসজিদের মুয়াজ্জিন। এছাড়া এই ব্যক্তি সড়ক ও
জনপথের জায়গা থেকে রাতের আঁধারে গাছ কেটে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত মো. নোমান বলেন, “এটা মসজিদের ক্রয়কৃত জায়গা। সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে আমাদেরকে একটি রায় দিয়েছে। জায়গাটি মসজিদকে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। বারইয়ারহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন জোর করে জায়গাটি দখল করে সেখানে আওয়ামী লীগের অফিস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”
একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, “আমি মাদ্রাসাটি এখনো ভর্তুকি দিয়ে চালাচ্ছি। মসজিদ ফান্ডে আমি কোনো ভাড়া দিচ্ছি না। আপনারা বললে মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দিব আমি।”
মসজিদের ইমাম মো. সিরাজ বলেন, “এটা মসজিদের জায়গা। তৎকালীন ইউএনও এই জায়গাটা মসজিদের জন্য দিয়ে গেছে। আওয়ামীলীগের অফিসে মাদ্রাসা করা শরীয়তে কোন বাঁধা নাই। মাদ্রাসা করার জন্য মোতয়াল্লি অনুমতি দিয়েছে। তবে মোতয়াল্লির নাম বলতে পারেননি তিনি।”
জোরারগঞ্জ থানা জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল হুদা হামিদী বলেন, “অভিযুক্ত নোমান জামায়াতের একজন কর্মী। এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার ব্যক্তিগত বিষয়ে সংগঠন কোনো দায় বহন করবে না। তারপরও তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলে কি করা যায় দেখি।”