প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫, ২:৩৩ পিএম

ভারতের দিক থেকে কালজানি নদী হয়ে হাজারো গাছের গুড়ি ও কাঠের টুকরো ভেসে আসছে। এসব কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এক ধান ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম মনসুর আলী (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ আগস্ট) সকালে দুধকুমার নদীতে ভেসে আসা গাছের গুড়ি সংগ্রহ করতে যান মনসুর আলী। এ সময় নদীর প্রবল স্রোতে পড়ে তিনি নিখোঁজ হন। স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীর তীরে শত শত মানুষ ভিড় করেন।
নিখোঁজ ব্যবসায়ী নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের খামার নকুলা এলাকার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের লিডার মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সকাল সাড়ে আটটার দিকে একজন ব্যক্তি দুধকুমার নদীতে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার ইউনিট পাঠাই। এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’
এদিকে রবিবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙা ও শালঝোড় এলাকায় কালজানি নদীতে হাজার হাজার গাছের গুড়ি ভেসে আসতে দেখা যায়। পরে এসব গাছের গুড়ি জেলার কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর ও চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদেও ভেসে যায়। অনেকেই নৌকা নিয়ে গাছ ধরতে যান। এছাড়া কয়েকটি নৌকাসহ অসংখ্য গবাদি পশু পানিতে ভেসে আসে। পরে নদীতে সাপ ও পাহাড়ি আবর্জনা দেখা যাওয়ায় কেউ আর নামার সাহস পাননি বলে জানায় স্থানীয়রা।
চিলমারী উপজেলার এক ব্যক্তি জানান, উজানের ঢলে রবিবার হঠাৎ করে ব্রহ্মপুত্র নদে স্থানীয়রা গাছের গুড়ি দেখতে পান ও নৌকা দিয়ে সংগ্রহ করেন। একসময় সাপ ও পাহাড়ি আবর্জনা দেখা যাওয়ায় কেউ আর গাছের গুড়ি সংগ্রহের সাহস পাননি।
নদী গবেষক ও রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘ভুটানের এলাকা হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার হাসিমারা বনাঞ্চল দিয়ে কালজানি নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বৃষ্টির পানিতে ওই বনাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সেখানকার গাছপালা ভেসে এসে বাংলাদেশে ঢুকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম