তেঁতুলিয়া গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা, পর্যটকদের সাথে সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: সারজিস

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, তেঁতুলিয়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। তিনি বলেন, এই জেলাকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং পর্যটকদের সাথে সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের আরও মনোযোগী হতে হবে।
রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে তেঁতুলিয়ার চৌরাস্তা বাজারে আয়োজিত ঐতিহাসিক তেতুলতলায় ২০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অর্থ বরাদ্দ বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, “তেঁতুলিয়া দেশের পরিচিতি অর্জন করেছে অর্গানিক চা, কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন ও পর্যটনের কারণে। তাই যারা বাইরে থেকে আসেন, তাদের পরিবারের চেয়েও ভালো ব্যবহার করতে হবে। যদি তারা সন্তুষ্ট হন, তারা আরও মানুষকে নিয়ে আসবেন। হোটেল, দোকান ও খাবারের ব্যবসা বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “ময়লা আবর্জনা থাকা পর্যটকদের আকর্ষণ কমায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন বলা হয়, কঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়, কিন্তু পরিবেশ ভালো না হলে পর্যটক আসবে না। আমাদের সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান- মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা যদি প্রয়োজন মনে করে তালিকা দেয়, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে।”
সারজিস আলম জানিয়েছেন, পঞ্চগড়ের উন্নয়নে রাজনৈতিক দল কোনো অন্তরায় হতে পারে না। তিনি বলেন, “চাইলে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামি দল বা অন্য দল সবাই একসাথে কাজ করলে তেঁতুলিয়াকে কাঙ্খিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। আমরা চাই, ভালো কাজের জন্য কেউ ক্রেডিট চাইবে না। দিনের শেষে ক্ষতিটা সবার জন্যই।”
তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতার বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, সরকারি টাকা নষ্ট করার বা ব্যক্তিগত পকেটে ঢুকানোর চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পঞ্চগড়ের মানুষ তা সহ্য করবে না।
সরকারি অর্থ বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারি প্রকল্পের জন্য একই প্রক্রিয়া লাগবে। রাস্তা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অবস্থা খারাপ থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত যোগাযোগ করবেন। “ভালো কাজ হলে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো। খারাপ হলে আমরা সরাসরি পদক্ষেপ নেব।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুল মতিন, সাজিদুল ইসলাম সাজিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং মসজিদ, মন্দির ও গীর্জাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এ সময় তেঁতুলিয়ার ২০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৩ লক্ষ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো