প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:২৪ AM আপডেট: ০৪.১০.২০২৫ ১০:২৯ এএম

ফাইল ছবি
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের জেমো আইলেট ও বিকার এটল দীর্ঘদিন ধরে ইঁদুরের আক্রমণে ভুগছিল। শত শত বছর আগে জাহাজের মাধ্যমে আনা এই ইঁদুরগুলো দ্বীপের বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। তারা কচ্ছপের ডিম, ছোট কাঁকড়া, পাখির ছানা এবং গাছের চারা খেয়ে দ্বীপগুলোকে প্রায় প্রাণহীন করে তুলেছিল।
২০২৪ সালে মার্কিনভিত্তিক পরিবেশ সংস্থা আইল্যান্ড কনজারভেশন স্থানীয় দ্বীপপুঞ্জের দপ্তরের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইঁদুর নির্মূলের প্রকল্প শুরু করে। ড্রোনের মাধ্যমে দ্বীপ জুড়ে বিশেষ খাবার ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা শুধুমাত্র ইঁদুরকে লক্ষ্য করে। প্রায় এক বছরের নজরদারির পর নিশ্চিত করা গেছে, এখন এই দ্বীপ দুটি সম্পূর্ণ ইঁদুরমুক্ত।
ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। বিকার দ্বীপে যেখানে আগে কোনো পাখির অস্তিত্ব ছিল না, এখন প্রায় দুই হাজার ‘সুটি টার্ন’ পাখি কলোনি গড়ে তুলেছে। নতুন প্রজাতির পাখি যেমন ক্রিসমাস শিয়ারওয়াটার, বাদামী নডি ও গ্রেটার ক্রেস্টেড টার্নও দ্বীপে ফিরে এসেছে। হাজার হাজার ‘পিসোনিয়া গ্র্যান্ডিস’ গাছের চারা বেড়েছে, যা আগে দেখা যেত না। এছাড়া কাঁকড়া ও টিকটিকি প্রজাতিও পুনরায় স্থিতি ফিরে পেয়েছে। সামুদ্রিক পাখিদের বিষ্ঠা মাটিকে উর্বর করছে এবং কাঁকড়া সমুদ্রে লার্ভা ছড়িয়ে পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য পুনঃস্থাপন করছে।
জেমো দ্বীপ সবুজ কচ্ছপের প্রধান প্রজননক্ষেত্র। ইঁদুর নির্মূলের পর স্থানীয়রা আশা করছেন, কচ্ছপের সংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধি পাবে। দ্বীপের কাছাকাছি বসবাসকারী লিকিয়েপ ও উত্রিক এলাকার মানুষ মাছ ধরা, নারকেল ও পাতা সংগ্রহের জন্য আবার দ্বীপগুলো ব্যবহার করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন, জেমো ও বিকারের প্রকল্পের সফলতা ভবিষ্যতে অন্যান্য দ্বীপে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পথ খুলে দিয়েছে। ইতোমধ্যেই বিকারের মতোই ইঁদুর আক্রান্ত বোকার এটলে এমন প্রকল্প চালানোর সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো