প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৪৬ AM

চট্টগ্রামের পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে টানা কয়েকদিন ধরে চলা অশান্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন, ভারত বা ‘ফ্যাসিস্ট চক্রের’ ইন্ধনে এ অঞ্চলে পরিস্থিতি অস্থির করা হচ্ছে।
তবে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল এ অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,
“আমরা ভিত্তিহীন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নিজ দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে, অথচ তাদের অভ্যাস হলো দায় এড়িয়ে অন্যকে দোষারোপ করা।”
ভারতের পক্ষ থেকে উল্টো অভিযোগ আনা হয় যে, কথিত উগ্রবাদীরা খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের জমি দখল করছে। মুখপাত্র বলেন,
“আমাদের আহ্বান থাকবে—ঢাকা সরকার যেন আত্মসমালোচনা করে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের ওপর উগ্রবাদী হামলা ও ভূমি দখলের ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন। ঢাকার অভিযোগ, হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর প্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সম্প্রতি বলেন, ভারত ও পতিত স্বৈরশাসক মিলেই খাগড়াছড়িতে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
এদিকে, জেলার সাম্প্রতিক সহিংসতার সূত্রপাত হয় ২৩ সেপ্টেম্বর। খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় এক কিশোরীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীর বাবা তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে মামলা করলে পুলিশ সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে (১৯) আটক করে।
তবে তদন্তে দেখা যায়, কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়নি—মেডিকেল রিপোর্টে এর কোনো আলামত মেলেনি। এর মধ্যেই দুষ্কৃতকারীরা মামলাকে কেন্দ্র করে শত শত ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তোলে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ