প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৫২ AM

ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক স্টারলিংক দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ভুটানে ইতিমধ্যেই তারা সেবা চালু করলেও সিঙ্গাপুর ও মঙ্গোলিয়াকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে হওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে, ব্যবসাও দাঁড়াচ্ছে না। এবার ব্যয় ও দূরত্ব কমাতে বাংলাদেশকে ট্রানজিট করতে চায় স্টারলিংক।
এই লক্ষ্যেই গাজীপুরের হাইটেক পার্কে বড় আকারের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখান থেকে ভুটানসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ইন্টারনেট সেবা সরবরাহের কৌশল নিয়েছে তারা।
স্টারলিংক ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে। ১৩ আগস্ট তারা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে অনুমোদন চেয়েছে।
চিঠিতে স্টারলিংক জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের ডেটা হাবকে সিঙ্গাপুর ও ওমানের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চায়। এর জন্য ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিজড সার্কিট (আইপিএলসি) এবং আনফিল্টারড আইপি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি আশ্বাস দিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারীর ট্র্যাফিক স্থানীয় ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ের মাধ্যমেই যাবে এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কনটেন্ট নীতিমালা কঠোরভাবে মানা হবে।
২৯৮তম কমিশন সভায় (২৭ আগস্ট) এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে বিটিআরসি ঢাকার কালিয়াকৈর, রাজশাহী ও যশোরে চারটি গেটওয়ে স্থাপনের তথ্য যাচাই করে। পরিদর্শনে দেখা যায়, এসব স্থাপনা ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে এবং স্থানীয় কোনো কারিগরি প্রতিনিধি পাওয়া যায়নি।
ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) জানায়, স্টারলিংক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু না করলেও ইতোমধ্যে কিছু প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণ করেছে।
ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির বলেন, “বর্তমানে সিঙ্গাপুর ও মঙ্গোলিয়া স্টারলিংকের সেবায় বড় বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বাংলাদেশকে ট্রানজিট করলে আমাদের জন্য ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ সংযোগে ফিল্টারিং বসানো হলে ব্যবসা জমবে না।”
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, “তাদের প্রস্তাব আমরা টেকনিক্যাল দিক থেকে পর্যালোচনা করছি। দেশের আইন ও গাইডলাইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকলে অনুমোদন দেব, অন্যথায় নয়।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ