
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬৬৩ জন, এর মধ্যে ৩৯৭ জনই শিশু। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গড়ে প্রতি মাসে ৭৩টির বেশি এবং প্রতিদিন দুইজনের বেশি নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন।
রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় সম্প্রতি এক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির বাবা বলেন, “এলাকার এক খারাপ লোক ভয় দেহাইয়া দিনদুপুরে আমার মাইয়াডারে ধর্ষণ করছে। মাইয়াডার অবস্থা এহন গুরুতর। আমি গরিব মানুষ, আমি হ্যার বিচার চাই।” বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি আছে।
শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও সারাদেশে আলোড়ন তোলে।
অপরাধের পরিসংখ্যান
এইচআরএসএস: জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার ৬৬৩ জন নারী-শিশু, এর মধ্যে ৩৯৭ শিশু।
পুলিশ সদর দপ্তর: আট মাসে নারী-শিশু নির্যাতন নিয়ে মামলা ১৫ হাজারের বেশি। গড়ে প্রতিদিন ৬০টির বেশি মামলা।
মহিলা পরিষদ: আগস্ট মাসে নির্যাতনের শিকার ২২৩ জন, এর মধ্যে ১১৫ জন হত্যা ও ধর্ষণের শিকার।
আসক: জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত ৫২৭টি ধর্ষণ, এর মধ্যে ২৬৬ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা ২৬ জন, আত্মহত্যা ৬ জন।
এমএসএফ: সেপ্টেম্বরে ধর্ষণ ৫৩টি, দলবদ্ধ ধর্ষণ ১৩টি, ধর্ষণের পর হত্যা ৩টি।
অপরাধ বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “ধর্ষণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি। বিচার বিলম্বিত হওয়ায় অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে।”
একাধিক আইনজীবী জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়া, প্রমাণ উপস্থাপনের দুর্বলতা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সামাজিক চাপের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
পিবিআই প্রধান মো. মোস্তফা কামাল বলেন, নানা সামাজিক ও পারিবারিক কারণে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। আর আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, ধর্ষণসহ সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর