প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ১:১৩ পিএম

বাম পাশে আসলাম, ডান পাশে দালাল জামাল প্রামাণিক
মাদারীপুরের যুবক আসলাম স্বচ্ছল জীবনের স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি লিবিয়ায় বন্দি আছেন। মুক্তির আশায় তার পরিবার দফায় দফায় ৪৮ লাখ টাকা দিলেও আসলামকে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের হুগলী এলাকার মানবপাচারকারী দালাল জামাল প্রামাণিকের কাছে এই বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে দিয়েও কোনো ফল মেলেনি। শেষ পর্যন্ত আরও টাকা দাবি করলে আসলামের মা আসমা আক্তার দালালের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে দালাল পালিয়ে গেছে বলে পরিবার জানিয়েছে। তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে দালালকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আসলাম ডাসার উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার দিনমজুর আব্দুল হালিম চৌকিদারের ছেলে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে সবার বড়। দেশে দিনমজুরের কাজ করতেন তিনি।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দালাল জামাল প্রামাণিক আসলামের পরিবারকে ১৫ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখান। ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি জামালের মাধ্যমে আসলাম লিবিয়ায় পৌঁছান। এরপর তাকে মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয় এবং মুক্তির নামে দফায় দফায় মোট ৪৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
টাকা তুলতে গিয়ে পরিবার জমি বিক্রি ও ধার-দেনা করে সর্বস্ব হারিয়েছে। এখনও ধার শোধ করতে না পারায় পাওনাদারের চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তারা। এরপর দালাল আবারও নতুন টাকা দাবি করলে অবশেষে আসলামের মা আদালতে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আসলামের মা আসমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “জমি বিক্রি ও ধার করে ৪৮ লাখ টাকা দিয়েছি ছেলেকে ইতালি পাঠানোর জন্য। দালাল জামাল দুই বছর ধরে আমার ছেলেকে লিবিয়ায় রেখে অমানুষিক নির্যাতন করছে। এখন আবার নতুন টাকা চাইছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, দালালের বিচার হোক এবং আমার ছেলেকে যেন জীবিত ফিরে পাই।”
পরিবার জানায়, জামালের বাড়িতে গেলে ঘরে তালা দেখে তারা। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে জামাল সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পরে ফোন কেটে দেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। যেসব মামলা হয়েছে, প্রতিটির ক্ষেত্রেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো