প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:১৭ পিএম

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর চারান বিল একসময় দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে খ্যাত ছিল। শোল, মাগুর, ট্যাংরা, বোয়াল, পুঁটি, কই, শিং, টেংরা, গজারসহ নানা প্রজাতির মাছ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যেত। বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ জলরাশিতে মাছ ধরা, নৌকাবাইচ, শাপলা-শালুক ও পাখির কলকাকলি মিলিয়ে বিলটি ছিল প্রাণবন্ত।
বর্তমানে চারান বিলের দেশীয় মাছের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। অতিরিক্ত মাছ শিকার, চায়না দূয়ারী ও অন্যান্য ফাঁদের ব্যবহার, এবং প্রজনন মৌসুমেও মাছ ধরার কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলীন হওয়ার পথে। নদী-নালা ভরাট, জলাভূমি সংকুচিত হওয়া, শিল্প বর্জ্য ও আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ বিলের বাস্তুসংস্থানের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। পাশের তাঁতশিল্পের বর্জ্য ও রঙের দূষিত পানি মাছের প্রজননকে ব্যাহত করছে।
চারান বিলের আশেপাশের প্রায় ২৩০ জন মৎস্যজীবী সমিতির কার্ডধারী এবং আরও কয়েকশ’ মানুষ বিলের ওপর নির্ভরশীল। এটি তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। বিলে মাছ না ধরলে স্থানীয় জেলেদের দৈনন্দিন জীবিকা বিপন্ন হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী জানান, জেলেদের প্রশিক্ষণ, পোনা অবমুক্তকরণ এবং অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও থানার সহযোগিতায় মৎস্য আইন বাস্তবায়ন ও সচেতনতা প্রচার করা হচ্ছে।
সিএনআরএস কর্তৃক পরিচালিত ‘ইকোলজি ফর লাইফ’ প্রকল্পের মাধ্যমে চারান বিলের বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির প্রকল্প শুরু হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এডিএসএম সাইফুল্লাহ (মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, মানবসৃষ্ট দখল ও দূষণই প্রধান সমস্যা। জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা, মানবিক সহযোগিতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ করা সম্ভব।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ