
র্যাগিংয়ের দায়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২৫ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় প্রক্টরিয়াল বডির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম জানান, অর্থনীতি বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মেসে নিয়ে নবীনদের মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। যার ফলে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফাহিম মুনস্তাসিরকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। ৪ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে জুনাইদ মোস্তকিম অয়নকে।
তিনি জানান, ২ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে- প্রীতম সাহা, শরিফুজ্জামান খান আতিফ, সাবিত আবরার তাজিম, অনিক আহমেদ, সুয়েল রানা, মো. যুবায়ের হোসেন তালুকদার জিম, মো. নাঈম মিয়া, বিকাশ চন্দ্র ধর, মিঞা মো. সাইয়্যেদুল বাশার রিফাত ও রাজন সাহা সানিকে।
আরও জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ১৫ জন ছাত্রীকে র্যাগ দেয়ার ঘটনায় ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের ৫ ছাত্রীকে শাস্তি দেয়া হয়। ৪ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে কাজী তাসমিয়া হক অরিশাকে। আজীবন আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে- ফারজানা মেহেরুন নূহ্য, তাসমিয়াহ আলম মাইশা, লামিয়া ইসমাইল জুঁই ও শ্রাবণী দে প্রিয়া।
অধ্যাপক জানান, বহিষ্কৃতরা হলে না থাকলেও ভবিষ্যতে তাদের সিট বরাদ্দ দেয়া হবে না। একইসঙ্গে তাদেরকে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে মুচলেকা দিতে হবে।
অন্যদিকে, একই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ৮ জন শিক্ষার্থী ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আড়াই ঘণ্টা র্যাগ দেয়ার ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন এবং ২ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন, মো. সাগর হোসেন।
আজীবন আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার (অথবা হলে সিট বরাদ্দ নিষিদ্ধ) হয়েছেন- শিবরাজ ত্রিপুরা, জুবায়ের আবদুল্লাহ, রিয়াদুস সালেহীন রিয়ান, তন্ময় কর্মকার সাগর, ইয়াজউদ্দিন পাটোয়ারী, নাফিজ ইমতিয়াজ রোহান। এ বিষয়ে তাদেরকে মুচলেকা দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘র্যাগিংয়ের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। নবীন শিক্ষার্থীরা র্যাগিংয়ের কারণে মানসিকভাবে ট্রমাটাইজ হয় এবং অনেক সময় একাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়ে। এ ঘটনাগুলো তদন্তের পর দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম