
কমছে পানি, ভাঙছে নদী। ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে লালমনিরহাটের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ফলিমারীর চর। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, জমিজমা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ২০০ পরিবার। চরবাসীর দাবি—দ্রুত স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
ধরলা একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। ভারতের চ্যাংরাবান্ধা হয়ে এটি লালমনিরহাটের পাটগ্রামে প্রবেশ করে এবং আবার ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়ে। দ্বিতীয় দফায় নদীটি প্রবাহিত হচ্ছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী মোগলহাট ইউনিয়নের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে। এই প্রবল স্রোতের কারণেই প্রতি বছর নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে ধরলার বুকে অবস্থিত ফলিমারীর চর। একসময় প্রায় ৩৫০টি পরিবার এ চরটিতে বসবাস করত। এখানকার ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে নদীভাঙনে ইতোমধ্যেই প্রায় ২০০ পরিবার সবকিছু হারিয়ে উজাড় হয়ে গেছে।
ভাঙনের ফলে চর থেকে বিলীন হয়ে গেছে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, কবরস্থান, দোকানপাট, ক্লিনিক, ঈদগাহ মাঠ, কাঁচা রাস্তা ও বিদ্যুৎ লাইনসহ নানা স্থাপনা। অবশিষ্ট প্রায় ১৫০ পরিবার এখনো নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে তারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরটিতে বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো আধুনিক সুবিধা নেই। একমাত্র যাতায়াতের ভরসা নৌকা। বিশাল চরটি এখন চারদিক থেকে নদীর ঘেরাটোপে আটকা পড়েছে। প্রতিবছর অল্প অল্প করে চরটি ধরলার পেটে তলিয়ে যাচ্ছে।
চরবাসীর অভিযোগ—ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খুব শিগগিরই পুরো চরটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জোনাব আলী জানান, তিনি নিজেও একসময় ফলিমারীর চরের বাসিন্দা ছিলেন। ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন অন্যত্র বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা গেলে অন্তত অবশিষ্ট পরিবারগুলো রক্ষা পেত।
মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন বলেন, শুধু ফলিমারীর চর নয়, ইউনিয়নের আরও কয়েকটি এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিষয়টি বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, “ধরলার ভাঙন পরিস্থিতি আমরা পরিদর্শন করেছি। কিছু স্থানে কাজ শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে ব্যাগের মজুত নেই। নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিনিধি/ আরএফ