প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৮ পিএম

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনার জেরে টানা তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলছে। জেলার গুইমারা উপজেলায় দুর্বৃত্তের গুলিতে তিন পাহাড়ি নিহত হওয়ার পর থেকে জেলার পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আহত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন।
গতকাল রোববার বিকেলে নিহতদের মরদেহ খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে আনা হয়। আজ সোমবার ময়নাতদন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা।
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে জেলার বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে কয়েকটি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে।
খাগড়াছি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা এলাকায় এখনো ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। সহিংসতা ঠেকাতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে টহল দিচ্ছে।
সড়ক অবরোধের কারণে জেলার সকল রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ। খাগড়াছির বিভিন্নস্থানে ব্যারিকেড বসিয়ে অবরোধ চালানো হলেও অবরোধকারীরা প্রকাশ্যে নেই। শহর ও শহরতলীর সড়কগুলো ফাঁকা পড়ে আছে, কাঁচামালবাহী গাড়ি আটকে থাকায় বাজারে পণ্য সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
ধর্ষণ মামলায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, অপর দুইজন এখনও পলাতক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছে জুম্ম ছাত্র-জনতা।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখনো ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম