প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে নীলক্ষেতে ব্যালট পেপার ছাপানোর মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। তবে ব্যালট পেপার ছাপানোর সংখ্যা বা স্থান কোনো সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ডাকসু নির্বাচন ইস্যুতে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নিয়ম মেনে একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে ব্যালট পেপার ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দ্রুততম সময়ে নির্ধারিত পরিমাণ ব্যালট ছাপানোর স্বার্থে মূল ভেন্ডরের সঙ্গে আলোচনা করে একই টেন্ডারের অধীনে আরেকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর বিষয়টি সহযোগী ভেন্ডর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেনি।
উপাচার্য আরও বলেন, ব্যালট পেপার শুধু ছাপালেই তা ভোটের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয় না। ছাপানোর পর নির্দিষ্ট মাপে কাটিং, নিরাপত্তা কোড আরোপ, ওএমআর মেশিনে প্রি-স্ক্যান, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর—এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই তা ভোট গ্রহণের উপযোগী হয়। এসব ধাপ নিশ্চিত করেই সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, এটা পরিস্কারভাবে অনুধাবনযোগ্য যে, ব্যালট পেপার ছাপানোর স্থান বা সংখ্যা সুষ্ঠু নির্বাচনকে কোনো ভাবে প্রভাবিত করে না। কারণ, ব্যালট পেপার ভোটের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করতে কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। ব্যালট পেপারটি ছাপানোর পর তা নির্দিষ্ট পরিমাপে কাটিং করতে হয়। তারপর সুরক্ষা কোড আরোপ করে ওএমআর মেশিনে প্রি-স্ক্যান করে তা মেশিনে পাঠযোগ্য হিসেবে প্রস্তুত করতে হয়। এরপর চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার সীলসহ স্বাক্ষর ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত হলেই তা ভোট গ্রহণের জন্য উপযুক্ত হয়।
নির্বাচনে মোট ৪৮টি অভিযোগ এসেছে এবং সবগুলোই নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। এছাড়া, কোনো প্রার্থী সিসিটিভি ফুটেজ বা ভোটারের স্বাক্ষর দেখতে চাইলে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তাকে আবেদন করতে হবে বলে জানান অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো