
সংগৃহীত ছবি
অনেক নারীই পেটব্যথাকে স্বাভাবিক ভেবে অবহেলা করেন। অনেক সময় মনে করেন, এটা হয়তো হজমের সমস্যা বা মাসিকজনিত ব্যথা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবহেলা হতে পারে প্রাণঘাতী। দেরিতে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা জটিল হয়ে ওঠে।
ভারতের ফর্টিস হাসপাতালের সার্জন ডা. পঙ্কজ শর্মা বলেন, পেটে হালকা বা তীব্র যেকোনো ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ, এর পেছনে থাকতে পারে গুরুতর অসুস্থতা।
পেটব্যথার পেছনে লুকিয়ে থাকা ৫ বিপজ্জনক কারণ
১. গলস্টোন (পিত্তথলিতে পাথর)
হরমোনজনিত প্রভাব, স্থূলতা বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে মহিলাদের মধ্যে গলস্টোন বেশি হয়। এতে বিশেষত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের পর ডানপাশের ওপরের পেটে তীব্র ব্যথা দেখা দেয়।
২. অ্যাপেন্ডিসাইটিস
অনেক সময় মাসিকের ব্যথা বা সাধারণ পেটব্যথা ভেবে ভুল করা হয়। কিন্তু অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গেলে এটি জীবনঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
৩. এন্ডোমেট্রিওসিস
স্ত্রীরোগ হলেও এটি তলপেটের তীব্র ব্যথা তৈরি করে, যা অনেক সময় হজমজনিত সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে যায়। রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব জটিলতা বাড়ায়।
৪. ওভারিতে সিস্ট
পেলভিক অঞ্চলের ব্যথা বা ফোলাভাবকে অনেক নারী মাসিকজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু বড় সিস্ট ঘুরে গেলে (ovarian torsion) জরুরি অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় থাকে না।
৫. হার্নিয়া
পেট বা কুঁচকির ফোলাভাবকে অনেকে ওজন বাড়া ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসা না করলে অন্ত্রের জরুরি সমস্যা (strangulation) তৈরি হতে পারে, যার সমাধান কেবল অস্ত্রোপচার।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
ব্যথা বিশ্রামে কমছে না।
বমি, জ্বর বা পেটফাঁপার সঙ্গে ব্যথা হচ্ছে।
হজম বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন হচ্ছে।
খাওয়ার পর ব্যথা বাড়ছে।
ব্যথা এত প্রবল যে দৈনন্দিন কাজে বাধা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
পেটব্যথা অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী হলে পেইনকিলার খেয়ে অবহেলা করবেন না। আলট্রাসাউন্ড বা ডায়াগনস্টিক ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে সহজেই কারণ জানা সম্ভব। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে জটিলতা এড়ানো যায় এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে দ্রুত সেরে ওঠার সুযোগও থাকে।