প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:২২ পিএম

সংগৃহীত ছবি
দুর্গাপূজার কয়েকদিন আগে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক রাতে প্রচণ্ড বর্ষণে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থা, এবং হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কলকাতা আঞ্চলিক প্রধান এইচ. আর. বিশ্বাস জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় শহরে ২৫১.৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯৮৮ সালের পর সর্বোচ্চ।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৯ জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং ২ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
বর্ষণের কারণে দুর্গাপূজার প্রস্তুতিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাঁশ ও কাপড়ে তৈরি মণ্ডপ, দেব-দেবীর মাটির প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাট জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের অনেককে জলমগ্ন পথে হাঁটতে হয়।
এছাড়া সড়ক, ট্রেন ও বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ট্রেন ও ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বহু এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকার নেমেছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ রঞ্জন পাণ্ডা বলেন, “ফ্লাইট বাতিল ও রাস্তাগুলো জলমগ্ন থাকায় আমি হোটেলেই আটকা পড়েছি।”
স্থানীয় প্রশাসন সড়ক ও রেললাইন থেকে পানি সরাতে পাম্প বসিয়েছে এবং জরুরি খাদ্য ও সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আইএমডি জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে আগামী কয়েক দিনে রাজ্যসহ পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আরও বৃষ্টি হতে পারে।
রাজ্য সরকার বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি শুক্রবার থেকে শুরু হবে। প্রশাসন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
কলকাতার বাসিন্দা সন্দীপ ঘোষ বলেন, “মাত্র চার ঘণ্টার বৃষ্টির পর শহরের এই অবস্থা হবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ভয়াবহ।”
সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি