প্রকাশ: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:১৪ পিএম আপডেট: ২২.০৯.২০২৫ ৭:১৭ PM

সংগৃহীত ছবি
দূর থেকে দেখলে মনে হবে ভাঙাচোরা পরিত্যাক্ত একটি কুঁড়েঘর। কিন্তু এখানেই বসবাস করছেন অসহায় ফেরদৌসী বেগম, তাঁর অসুস্থ বৃদ্ধা মা ও তিন সন্তান। নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামের খালপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এ ঝুপড়িঘরই তাদের একমাত্র আশ্রয়।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, এক কক্ষবিশিষ্ট ঘরে পানি জমে আছে, চারপাশ ভাঙা টিন আর বাঁশের বেড়ায় ঘেরা। যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই, হাঁটু থেকে কোমরসমান পানির ভেতর দিয়েই সেখানে পৌঁছাতে হয়। বর্ষায় টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে, শীতে ঠান্ডা বাতাসে ঘর জমে যায়, আর গ্রীষ্মে টিনের তাপ ঘরকে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করে। বিদ্যুতের সংযোগও নেই।
ফেরদৌসী বেগম জানান, স্বামীর কোনো খোঁজ নেই অনেকদিন। সংসার চালাতে প্রতিদিন ভোরে বেরিয়ে পড়তে হয় কখনো ঝি-এর কাজ করতে, কখনো দিনমজুর হিসেবে। যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোরকমে চলে। অনেক সময় সন্তানদের খালি পেটে ঘুমাতে হয়। কয়েক মাস আগে ঝড়ো হাওয়ায় একটি গাছ ভেঙে পড়ে ঘরের ওপরে, তখন থেকে তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে।
অভিযোগ করে ফেরদৌসী বলেন, “মানুষের মুখে শুনি সরকার গরিব মানুষকে ঘর দেয়, কিন্তু আমরা কোনো সহায়তা পাইনি। আমার অসুস্থ মা ভাতা তালিকায় নাম থাকলেও ভাতা পান না। সন্তানদের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে অভাবের কারণে। অন্তত একটি নিরাপদ ঘর পেলে আমরা একটু স্বস্তি পেতাম।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফেরদৌসী পরিবারটির জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর। ২০২৪ সালের বন্যায় তারা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো সাহায্য পায়নি। তাঁদের মতে, স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের সহায়তায় ফেরদৌসী বেগমের পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী বসতবাড়ির ব্যবস্থা করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “ওনারা ভূমিহীন, এটা এখন জানতে পারলাম। তারা যদি আবেদন করেন, আমরা যাচাই করে তাদের ঘর বা টিন সরবরাহের চেষ্টা করব।”
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো