প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৪০ AM আপডেট: ২০.০৯.২০২৫ ৬:১৬ এএম

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকার পতনের ১০ দিন পর প্রকাশ্যে ফিরে আসেন এবং সেনা আশ্রয় ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে উঠেন। ভক্তপুর জেলার গুণ্ডু এলাকায় থাকা ওই স্থানে তিনি ৯ দিন কাটান। ফিরে এসে ওলি বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “পুলিশ নয়, বরং আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করেছে।”
চলতি মাসের শুরুতে নেপালে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থার বিরুদ্ধে জেন-জি তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের পর বিক্ষোভ আরও বেগবান হয়ে সহিংস রূপ নেয়। ৮ সেপ্টেম্বর রাজপথে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হন এবং কয়েক শতাধিক আহত হন। এর পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ওলি পদত্যাগ করেন।
নিরাপত্তার কারণে ওলি সেনাবাহিনীর সহায়তায় গোপন আশ্রয়ে যান। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ৯ দিন সেনা নিরাপত্তায় থাকার পর তিনি ব্যক্তিগত স্থানে চলে যান। সেই স্থান প্রকাশ করা হয়নি।
১০ দিন আত্মগোপনের পর শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নেপালের সংবিধান দিবসে এক বার্তায় তিনি ফের জনসম্মুখে আসেন। তিনি বলেন, “সরকার কখনোই পুলিশ বা সশস্ত্র বাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়নি। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যবহৃত হয়েছে, যা নেপালি পুলিশের কাছে নেই। এটি তদন্তের দাবি রাখে।”
কেপি শর্মা ওলি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভে ষড়যন্ত্রমূলক অনুপ্রবেশকারীরাই আন্দোলনকে সহিংস করেছে। তার পদত্যাগের পর বিভিন্ন সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগও হয়েছে, যা বাইরের শক্তির প্রভাব নির্দেশ করে। ওলি বলেন, বর্তমান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। পদত্যাগের পর নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবেক বিচারপতি সুশীলা কার্কি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ