প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৩২ পিএম

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি ফ্রি মিল খেয়ে প্রায় ৮০০ স্কুল শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে দুটি ভিন্ন এলাকায় এ ধরনের গণ বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির অধীনে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঘটনা।
পশ্চিম জাভার গারুত অঞ্চলের পাঁচটি স্কুলে ৫৬৯ শিক্ষার্থী মুরগি ও ভাত খাওয়ার পর বমি ও বমি বমি ভাবের লক্ষণ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শুক্রবার পর্যন্ত ১০ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন ছিল, বাকিরা সুস্থ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সরকার জানিয়েছে, এখন থেকে রান্নাঘরগুলোর ওপর আরও কঠোর নজরদারি করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের মুরগি-ভাতের পরিবর্তে রুটি, ডিম, দুধ ও ফলের মতো সহজপাচ্য খাবার দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সেন্ট্রাল সুলাওয়েসির বাঙ্গাই দ্বীপপুঞ্জে একই কর্মসূচির খাবার খেয়ে আরও ২৭৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। সেখানে সাময়িকভাবে খাবার বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট অব ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সের তথ্যমতে, কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজারেরও বেশি শিশু এ ধরনের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছে। ফলে কর্মসূচির মান ও তত্ত্বাবধান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ২ কোটির বেশি মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এ বছরের শেষে তা ৮ কোটির বেশি প্রাপকের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য সরকারের। প্রকল্পটির বাজেট ১৭.১ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (প্রায় ১,০৩২ কোটি মার্কিন ডলার), যা আগামী বছর দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ