প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৬ AM

সংগৃহীত ছবি
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এক মক্তব ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে শরিফ উদ্দিন শরিফ নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিন বছর আগের ওই ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া শরিফ উদ্দিন শরিফ কানাইঘাট উপজেলার সিঙ্গারীপাড় এলাকার মুহিবুর রহমানের ছেলে। তিনি দুই স্ত্রী ও দুই সন্তানের জনক।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শরিফ উদ্দিন কক্ষে ডেকে নিয়ে এক মক্তব ছাত্রীকে (১০) জড়িয়ে ধরেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর ছাত্রীটি বেরিয়ে গেলে ভিডিও ধারণের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিজেই বন্ধ করতে দেখা যায় তাকে। ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি শরিফ উদ্দিন নিজেই ধারণ করেছিলেন।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী ২০২২ সালে গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের নানা বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মক্তবে পড়াশোনা করত। তখনই তার ওপর শিক্ষক শরিফ উদ্দিনের দৃষ্টি পড়ে। এ ঘটনার পর ভয় পেয়ে ছাত্রীটি মক্তবে যাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং বাড়ি ফিরে যায়।
ভিডিওটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়লে শরিফ উদ্দিন পালিয়ে যান। পরে পুলিশ কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও বালাগঞ্জসহ একাধিক স্থানে অভিযান চালালেও তাকে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নারী সংক্রান্ত নানা অভিযোগের কারণে শরিফ উদ্দিনকে কখনো কোনো মসজিদ বা মাদরাসায় স্থায়ীভাবে রাখা হয়নি।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফ উদ্দিন ঘটনাটি ২০২২ সালে ঘটেছিল বলে স্বীকার করেছেন। সে সময় তিনি নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের একটি জামে মসজিদে ছানী ইমামের দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, শরিফ উদ্দিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন।