প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৬ পিএম আপডেট: ১৮.০৯.২০২৫ ৭:৫৪ PM

পটুয়াখালীর বাউফলে কাজি মাসুদ রানা (৩৬) নামের এক ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসায় ফাতেমা বেগম (৬০) নামের এক নারীর দুই চোখ নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ফাতেমা বেগম নাকে একটি ছোট টিউমার নিয়ে মাসুদ রানা নামে এক স্থানীয় ডাক্তারের কাছে যান। স্থানীয় ওই চিকিৎসক রোগকে পলিপাস বলে দাবি করে প্রথমে ১২ হাজার টাকা চান, পরে ৭ হাজার টাকায় চুক্তি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ৩১ জুলাই স্থানীয় চিকিৎসক মাসুদ রানা ওই নারীর অপারেশন করেন। একদিন পর রোগী অসুস্থ বোধ করলে ২ আগস্ট পুনরায় ওই চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি অপারেশনের মাধ্যমে পলিপাস অপসারণ করেন। এসময় রোগীর নাক দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং চোখে সমস্যা দেখা দেয়।
পরবর্তীতে মাসুদ রানা রোগীকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখাতে পরামর্শ দেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ক্ষতস্থানে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে এবং উভয় চোখই আক্রান্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী রোগীর স্বামী আবদুস সালাম জানান, প্রায় ১৫ দিন চিকিৎসার পর ডাক্তাররা ঢাকায় প্রেরণের পরামর্শ দেন। ঢাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানানো হয়, ফাতেমার উভয় চোখ নষ্ট হয়ে গেছে এবং তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।
অভিযুক্ত কাজি মাসুদ রানা নিজেকে ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট’ (ডিএমএ) দাবি করলেও তার সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘গ্রাম ডাক্তার’। এমনকি ভিজিটিং কার্ডেও তিনি ‘গ্রাম ডাক্তার সমিতির সভাপতি’ পরিচয় দিয়ে রেজি-নং ঢ ০২৪৫৪ ব্যবহার করছেন।
এবিযয়ে মাসুদের সাথে কথা বললে তিনি স্বীকার করে বলেন, ‘হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে ওই রোগীর নাকের পলিপাস অপসারণ করেছেন।’ তবে হোমিও চিকিৎসার কোনো সনদ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ আমি দেখতে দেখতে শিখেছি। আমার কাছে কোনো হোমিও চিকিৎসার সনদ নেই।’ এদিকে অপারেশনের পর তিনি রোগীকে এন্টিবায়োটিকসহ নানা ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছেন।
মাসুদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে ‘এসিড নাইট মেথার’ নামক ওষুধ। যা সম্পর্কে হোমিও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি কখনো এই ওষুধ ব্যবহার করি না, কেন ব্যবহার করা হয় তাও জানি না।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন মো. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘সে কোনো ভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো যোগ্যতা রাখে না। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম