প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:০০ AM

ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও পাবনা সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি। শুধু তাই নয়, সরকারি সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী বর্তমানে পাবনা সদর উপজেলার বালিয়াহালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র ও আধার কার্ড পাওয়া গেছে। ওই নথি অনুযায়ী তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার দক্ষিণ ব্যারাকপুর শহরের দমদম এলাকার সূর্যসেন পল্লি, ৪৬৭ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা নির্মল কুমারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সুখ রঞ্জন পাবনা পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করেন। তার স্ত্রী ও বড় ছেলে ভারতেই থাকেন। ছোট ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সরকারি ভাতা পান। এ কারণে তিনি ছোট ছেলেকে নিয়ে পাবনায় অবস্থান করেন। তবে প্রায় সময় তিনি ছুটি নিয়ে ভারতে যান। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভারতে জমি-ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং পরিবারসহ সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করেছেন।
সুখ রঞ্জনের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় অভিযোগ হলো, তিনি তার শ্বশুর দীপক কুমার রায়ের নামে লিজ নেওয়া সরকারি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে নিতে চান। তার শ্যালক সুমন কুমার রায় অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাবা শহরের মুরগি পট্টিতে সরকারি জমি লিজ নিয়ে বসবাস করতেন। বাবার মৃত্যুর পর আমার মায়ের নামে লিজ হয়। মা মারা যাওয়ার পর আমার বোনকে একমাত্র উত্তরসূরি বানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছে সুখ রঞ্জন। একইভাবে পৌরসভাতেও আমার বোনকে একমাত্র উত্তরসূরি বানিয়ে আবেদন করেছে। অথচ ওই বাড়িতে আমিও থাকি। এখন ওরা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, “আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। বেশ কিছু কাগজপত্রও হাতে পেয়েছি। ইতোমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। এসব কাগজপত্র বানানো যায়। আমার স্ত্রী-সন্তানরা পারিবারিক ঝামেলার কারণে ভারতে চলে গেছে, তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। আমি চেষ্টা করেছি তাদের আনতে, কিন্তু তারা আসেনি। আমার সব বৈধ ডকুমেন্টস আছে। তদন্ত হলে সত্য প্রমাণিত হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ