প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:১৮ পিএম

বরগুনায় পুলিশের বিছানায় বসে ভাত খাচ্ছেন বিভিন্ন মামলার আসামি যুবলীগ নেতা আরিফ উল হাসান এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, ভিডিওতে দেখা যায় তিনি বরগুনার সাবেক ডিবি ওসি ও বর্তমানে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক বশির আলমের সঙ্গে একান্ত আলাপও করছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই কোর্ট পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও আসামিকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পরপরই ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ সুপারের নির্দেশে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক বশির আলমসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করে বরগুনার পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২ সেপ্টেম্বর আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পুলিশের ব্যারাকে। সেখানে পুলিশের বিছানায় বসে খাবার খাওয়ার সময় আসামি আরিফ উল হাসানকে দেখা যায়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন, বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণ আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া স্ত্রী কর্তৃক দায়ের করা যৌতুক মামলার আসামিও তিনি।
২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, স্বজনদের উপস্থিতিতে পুলিশ ব্যারাকে বসে ভাত খাচ্ছেন আরিফ। ভিডিওর একপর্যায়ে তিনি কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক বশির আলমের সঙ্গে আলাপ করছেন, পরে আবার খেতে বসেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বশির আলম পূর্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনকারীদের ব্যাপক হয়রানি করেছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর কর্মস্থল বদল হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ফলে এখনো তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ।
ঘটনা প্রসঙ্গে বরগুনার জেলা সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, “আসামিকে পুলিশ ব্যারাকে বসিয়ে খাবার খাওয়ানোর কোনো সুযোগ নেই। এটি বেআইনি। তাছাড়া খাবারের মাধ্যমে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকিও থাকে।” তিনি আরও জানান, যুবলীগ নেতা আরিফের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ বরগুনায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং ২ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক বশির আলম। তার দাবি, ভাইরাল ভিডিওটি কোর্ট ব্যারাকের নয়। অন্যদিকে বরগুনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল-মামুন শিকদার বলেন, “ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ