
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি শহরে আসেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে নিউইয়র্ক পুলিশকে (এনওয়াইপিডি) নির্দেশ দেবেন।
গতকাল শুক্রবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জোহরান বলেন, নেতানিয়াহুকে তিনি যুদ্ধাপরাধী মনে করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গাজায় গণহত্যা চালানোর কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যা সম্মান জানিয়ে তাঁকে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় প্রশাসন দ্বারা নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা প্রায় অসম্ভব এবং ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। তবুও জোহরানের এই প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে নিউইয়র্কে যে ইহুদি সম্প্রদায়ের সংখ্যাগুরু বসবাস করে।
জোহরান বলেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও গ্রেপ্তার করবেন, যিনি আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য শহরটিকে এমন একটি জায়গা বানানো যেখানে আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করা হয়।
আইসিসি থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। ফলে নিউইয়র্ক পুলিশের ক্ষমতা সীমিত। বিশেষজ্ঞরা এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, বাস্তবায়ন করা কঠিন।
জোহরানের বক্তব্যকে সমর্থন করছেন নিউইয়র্কবাসীর একাংশ, বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষ। জরিপে সম্ভাব্য ইহুদি ভোটারদের মধ্যে ৩০ শতাংশ সমর্থন দিয়েছেন জোহরানের প্রতি।
নেতানিয়াহু হুমকি ও মন্তব্যের বিষয়ে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জোহরানের মন্তব্য নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন এবং নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হবে।
জোহরান মামদানি বলেছেন, “এটা এমন একটি কাজ, যা আমি বাস্তবায়ন করতে চাই।” তবে আইনি এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী, এমন গ্রেপ্তার কার্যকর করা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় অসম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ