
কেন তিনি ক্ষমা চাচ্ছেন না?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (ডাকসু) টিএসসি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রক্টর ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন মোনামীর সাথে নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের প্যানেলের জিএস প্রার্থী ও কবি জসিমউদ্দিন হল শাখার আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। এই ঘটনা ক্যাম্পাসে ইতিবাচক সাড়া ফেললেও, একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসের আচরণের বিষয়টি সামনে এনেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সৌজন্য ও শ্রদ্ধার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, হামিম যদি তার আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে পারেন, তাহলে ভিসির সাথে অশোভন আচরণের পরেও ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস কেন নীরব রয়েছেন। কেন তিনি ক্ষমা চাচ্ছেন না।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনের দিন টিএসসিতে দায়িত্বে থাকা মোনামী ম্যামের সাথে হামিমের একটি উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে হামিম এক অনলাইন টকশোতে এবং নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই দিনের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, উত্তেজিত অবস্থায় কথা বলাটা তার ঠিক হয়নি এবং দিনশেষে মোনামী তার শিক্ষক। হামিমের এই পদক্ষেপকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তবে, এই আলোচনার মধ্যেই সামনে আসছে আরেকটি ঘটনা। ডাকসু নির্বাচনের দিন বিকেলে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ভিসির সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন এবং টেবিল চাপড়ে কথা বলেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আসার পরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবকের প্রতি চরম অসম্মানজনক বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ দুটি ঘটনাকে পাশাপাশি রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলে ধরেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুল আলম বলেন , “হামিম যে কাজটি করেছে তা প্রশংসার যোগ্য। ভুল স্বীকার করার মধ্যে মহত্ত্ব আছে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো, সৌজন্যবোধ কি শুধু কর্মীর জন্য, নেতার জন্য নয়? ছাত্রদলের সভাপতি যেভাবে ভিসি স্যারের সাথে কথা বলেছেন, সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা তার কাছ থেকেও একই ধরনের দুঃখ প্রকাশ আশা করেছিলাম।”
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, “একই সংগঠনে দুজনের দুই রকম আচরণ! একজন শিক্ষকের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলেন, আর অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের সাথে অশোভন আচরণ করেও স্বাভাবিক আছেন। এর মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে কি বার্তা দেওয়া হচ্ছে? আমরা নেতাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।”
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী রাইসা মাহনুদা বলেন, “একজন ছাত্রনেতা হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের আদর্শ স্থাপন করার কথা। টিএসসির ঘটনাটি দুঃখজনক ছিল এবং হামিম সেটি বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছে। কিন্তু ভিসির সাথে যে আচরণ করা হয়েছে, তা সংগঠনের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সভাপতির উচিত ছিল তার আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।”