প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৭ AM

হাত–পায়ের আঙুল ফোটানো নিয়ে অনেকের ভিন্ন ভিন্ন ধারণা থাকলেও চিকিৎসকরা বলছেন, বিষয়টি একেবারেই ক্ষতিকর নয়—আবার পুরোপুরি নির্দোষও নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের অর্থোপেডিক সার্জন কিম এল. স্টার্নসের মতে, আঙুল ফোটানোর সময় আসলে জয়েন্টের ভেতরের নাইট্রোজেন গ্যাসের ক্ষুদ্র বুদবুদ ভেঙে শব্দ হয়। এতে আঙুল লম্বা বা মোটা হয় না, এমনকি সঠিকভাবে করলে আর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকিও নেই। তবে ভুলভাবে বা খুব জোরে ফোটালে লিগামেন্টে আঘাত, আঙুল স্থানচ্যুতি বা ব্যথার ঝুঁকি থাকে।
গবেষণার ফলাফলেও মিশ্র চিত্র পাওয়া গেছে। ১৯৯৯ সালের এক গবেষণায় আঙুল ফোটালে কবজি দুর্বল হয় বলা হলেও পরে তা খারিজ হয়। ২০১৭ সালের গবেষণায় দেখা যায়, ফোটানো আর না ফোটানোর মধ্যে শক্তি বা স্থিতিশীলতায় বড় কোনো পার্থক্য নেই, যদিও কার্টিলেজের পুরুত্বে সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
২০১১ সালের ‘ক্র্যাক ইয়ার’ গবেষণা আরও দেখিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আঙুল ফোটানোর সঙ্গেও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে অতিরিক্ত চাপ বা অস্বাভাবিকভাবে টেনে ফোটানো সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—যদি কেবল আরামের জন্য বা অভ্যাসে আঙুল ফোটানো হয় এবং তাতে ব্যথা, ফোলা বা নড়াচড়ায় সমস্যা না হয়, তবে তা ক্ষতির নয়। কিন্তু অস্বস্তি দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ