
সংগৃহীত ছবি
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানিলন্ডারিং এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট জালিয়াতির অভিযোগে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলা দুটি দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
অবৈধ সম্পদের মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জ্ঞাত আয়-উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮২০ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা দখলে রাখেন। এছাড়া ওই সম্পদ হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
রাজউকের প্লট জালিয়াতির মামলায় বিচারপতি মানিকসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামিরা হলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী কাশমিরি কামাল, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, রাজউক সদস্য আবু বক্কার সিকদার, এম মাহবুবুল আলম, সাবেক চেয়ারম্যান জি এম জয়নাল আবেদীন ভুইয়া ও সাবেক কর্মকর্তা আব্দুল হাই।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা যোগসাজশে মিথ্যা হলফনামা দিয়ে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মূল বরাদ্দ গ্রহিতার নামে প্লট বরাদ্দ নিয়ে তা লিজ শর্ত ভঙ্গ করে হস্তান্তরের অনুমতি আদায় করেন এবং প্লটটি আত্মসাৎ করেন। এ মামলাটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় দায়ের করা হয়।
দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন মামলাগুলো দায়ের করেছেন।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতে পালানোর সময় ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে বিজিবির হাতে আটক হন বিচারপতি মানিক। এরপর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া ছয়টি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়।
বিচারপতি মানিক বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নাগরিকও। লন্ডনে তার একাধিক বাড়ি রয়েছে। তিনি ২০১২ সালে বিচারপতি থাকাকালীন এবং ২০১৫ সালে অবসরোত্তর সময়ে লন্ডনে দু’বার হামলার শিকার হন।