
আমাদের দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাব
প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, নিরাপদ ক্যাম্পাসসহ সাত দাবিতে প্রায় ২৯ ঘণ্টা ধরে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী।
গতকাল বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কলা ভবনের নিচে প্রক্টর অফিসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি বলে জানান অনশনরত শিক্ষার্থীরা।
অনশনরত বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার বলেন, “৩০ ঘণ্টা পার হওয়ার পরেও প্রশাসন আমাদের সাথে দেখা করতে আসেনি। প্রশাসন বলছে যে, এখানে গুটি কয়েকজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল করার জন্য পায়চারি করছে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা যখন পোষ্য কোটার জন্য আন্দোলন করেছিলাম, তখনও প্রো-ভিসি শামীম স্যার বলেছিল আমরা নাকি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছি। তবে আমাদের দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাব। প্রশাসন যদি আমাদের লাশ দেখতে চায়, তাহলে লাশই যাবে তাদের কাছে।”
আরেক শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম শাহজান বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত যোগাযোগ করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। আমরা দেখতেছি, প্রশাসনের রাজনৈতিক ছোট ভাইরা তারা আমাদের নামে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, আমাদের নানাভাবে বুলিং করার চেষ্টা করছে। তবে আমাদের সংগ্রামের জায়গায় যেভাবে শুরু করছিলাম। একইভাবে চালিয়ে যাব।”
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, “এ বিষয়টিতে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তবে মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা দেখছি, প্রক্টর অফিসের সামনে ৯জন শিক্ষার্থী শুয়ে আছে। তবে এ জায়গাতে তারা শুয়ে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা আমরা স্পটে গেলে দেখতে পারবো।”
অনশন করছেন- বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, সংগীত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ঈশা দে, স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রামা সাইন মারমা, ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষার্থীরা আহমেদ মুগ্ধ ও নাঈম শাহজান, মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার, মিউজিক বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষার্থী জশদ জাকির, বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষার্থী সুদর্শন চাকমা এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষার্থী ধ্রুব বড়ুয়া।
তাদের সাত দাবি হচ্ছেঃ
১) আহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা প্রদান।
২) নিরাপত্তাহীন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য অবিলম্বে মানসম্মত ভ্রাম্যমাণ আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং আবাসনচ্যুত শিক্ষার্থীদের মালামাল উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৩) উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ঘিরে বিশেষভাবে চিহ্নিত শিক্ষার্থীদের সকলপ্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪) সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ এলাকাবাসীদের হয়রানি বন্ধ করা।
৫) বৈপরীত্যমূলক দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনে উভয়পক্ষের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন করা এবং ন্যূনতম তিন মাস পরপর মিটিং করা।
৬) সিন্ডিকেট কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের রোডম্যাপ প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা।
৭) শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।