
সংগৃহীত ছবি
দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। মধ্যরাতে একে একে বিভিন্ন কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদ ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে যান ছাত্রশিবির প্যানেলের প্রার্থী সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দীন
খান।
সর্বশেষ রাত সোয়া ৪টার দিকে সর্বশেষ ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) সর্বমোট ১২ হাজার ১০৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন চার হাজার ৯১৫ ভোট।
এদিকে প্রাপ্ত ফলাফল অনুসারে, অমর একুশে হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক
কায়েম ৬৪৪, আবিদ ১৪১, জিএস পদে ফরহাদ ৪৬৬, বাকের ১৮৭, হামিম ১৮০ এবং এজিএস
পদে মহিউদ্দীন ৫২১, মায়েদ ১৪১, মুদ্দাসসির ১০১ ভোট পেয়েছেন। সুফিয়া কামাল
হলে সাদিক কায়েম ১২৭০, আবিদ ৪২৩, উমামা ৫৪৭, জিএস পদে ফরহাদ ৯৬৪, মেঘ
মল্লার ৫০৭, হামিম ৪০২, এজিএস পদে মহিউদ্দীন ১১৩৫, মায়েদ ৩৯৭ ভোট পেয়েছেন।
ফজলুল হক মুসলিম হলে ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৮৪১, আবিদুল ১৮১, জিএস পদে হামিম
২২৮, ফরহাদ ৪৮৯, বাকের ৩৪৫, এজিএস পদে মহিউদ্দীন ৭০৫ ভোট পেয়েছেন।
জসীমউদ্দিন হলে ভিপি পদে সাদিক ১২০০, আবিদ ৪০০। শহীদুল্লাহ হলে ভিপি পদে
সাদিক ৯৬৬, আবিদ ১৯৯, উমামা ১৪০, আবদুল কাদের ৫৬, জামাল ২৬ ভোট পেয়েছেন।
জিয়া হলে সাদিক কায়েম ৮৪১, আবিদুল ১৮১, আবদুল কাদের ৪৭, উমামা ১৫৩ ভোট
পেয়েছেন।
এর আগে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর সন্ধ্যা থেকে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এছাড়াও, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
করেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্যানেলের প্রার্থীরা সাংবাদিকদের কাছে
অভিযোগ করে বলেন, ইউল্যাব কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনে টিএসসির কেন্দ্রে এক ভোটারকে দেওয়া ব্যালটে আগে থেকেই
ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম ও জিএস প্রার্থী
এস এম ফরহাদের নামের পাশে ‘ক্রস দেওয়া ব্যালট’ সরবরাহের অভিযোগ আনেন উমামা
ফাতেমার প্যানেলের প্রার্থী রূপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গা।
এ বিষয়ে
কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. নাসরিন সুলতানা বলেন, “ব্যালট পেপার নিয়ে
বুথের ভিতরে ঢোকার পর এমন অভিযোগ করার সুযোগ নেই।”
তিনি আরো বলেন, ‘অভিযোগ
পেয়ে আমরা সবগুলো ব্যালট পেপার চেক করেছি। কোথাও এমন সমস্যা পাইনি।”
গতকাল ক্যাম্পাসে সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালে ভোট শুরু হওয়ার আগেই
ছাত্রছাত্রীরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে যান। একে একে প্রবেশ করেন বুথের
ভিতরে। মোট ছয়টি ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার ছাত্রছাত্রীরা পেয়েছেন আট
মিনিট সময়। ভোট শেষ করে সহাস্যেই বের হন তাঁরা। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার
প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ছাত্রছাত্রীরা। আবাসিক
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সমানতালে ভোট উৎসবে অংশ নেন অনাবাসিক
শিক্ষার্থীরাও। পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি নারী ভোটারদেরও উপস্থিতি ছিল চোখে
পড়ার মতো।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মোট
৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন ৬২ জন। এছাড়া মোট ভোটার
ছিলেন ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭৩ জন
এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন। নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোটগ্রহণ করা
হয়েছে।
ভোট গ্রহণ শেষে বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ
খান সাংবাদিকদের জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন শেষ
হয়েছে। নির্বাচনে স্বচ্ছতার কোনো ঘাটতি ছিল না।
বিকালে নির্বাচন কমিশন জানায়, ডাকসু নির্বাচনে ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ
শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ড. মুহম্মদ
শহীদুল্লাহ হলে ৮০.২৪ শতাংশ, অমর একুশে হলে ৮৩.৩০ শতাংশ, ফজলুল হক মুসলিম
হলে ৮১.৪৩ শতাংশ, জগন্নাথ হলে ৮২.৪৪ শতাংশ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে
৮৪.৫৬ শতাংশ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৮৩ শতাংশ, রোকেয়া হলে ৬৫.৫০ শতাংশ,
বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ৬৮.৩৯ শতাংশ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব
হলে ৬৭.০৮ শতাংশ, স্যার এ এফ রহমান হলে ৮২.৫০ শতাংশ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন
হলে ৮৩.৩৭ শতাংশ, বিজয় একাত্তর হলে ৮৫.০২ শতাংশ, সূর্য সেন হলে ৮৮ শতাংশ,
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ৭৫ শতাংশ, শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৮৭ শতাংশ,
কবি জসীমউদ্দীন হলে ৮৬ শতাংশ, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৬৪ শতাংশ ও শামসুন
নাহার হলে ভোট পড়েছে ৬৩.৬৭ শতাংশ।
এদিকে হলের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে উল্লাসে মেতে উঠেন তাদের কর্মী এবং সমর্থকেরা। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।