
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় কৃষকরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও বিভিন্ন হাট-বাজারে সার ডিলার এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় হাতাহাতি ও তুমুল হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রৌমারী বাজার ও বড়াইকান্দি বাজারে এসব ঘটনা ঘটে।
রৌমারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ৯ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই জমির জন্য বরাদ্দ রয়েছে- ইউরিয়া: ৩৮৫ মেট্রিক টন, টিএসপি: ৪৯.২০ মেট্রিক টন ও ডিএপি: ১০৯.২০ মেট্রিক টন।
কিন্তু সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিএডিসি অনুমোদিত ডিলাররা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার বিক্রি করছেন না। তাঁরা সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দকৃত টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি উত্তোলন করে সরাসরি কৃষকদের না দিয়ে অবৈধভাবে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছেন।
কৃষি বিভাগের সঠিক মনিটরিং না থাকায় কিছু ডিলার কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে নানা অনিয়মে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক ডিলারের নিজস্ব দোকান না থাকায় তারা সুবিধাজনক কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চড়া দামে সার বিক্রি করছেন।
রৌমারী বাজারের কয়েকজন খুচরা বিক্রেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। তবুও সার সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
রৌমারী ইউনিয়নের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ‘ডিএপি ১০৫০ থেকে ১৩৫০, টিএসপি ১৩৫০ থেকে ২৪০০, আর ইউরিয়া ১৩৫০ থেকে ১৬০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামে সার মিলছে না। ক্যাশ মেমো চাইলে বলা হয়, সার নাই। ডিলারদের কারসাজির কারণেই এই দাম গুনতে হচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দোকানে সাইনবোর্ড নেই, বিক্রয় রেজিস্ট্রার নাই, মোবাইল নম্বরও রাখা হয় না। কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না।’
খাটিয়ামারী গ্রামের কৃষক আফতারুল ইসলাম বলেন, ‘আমন ধানের চারা রোপণের জন্য টিএসপি দরকার। কিন্তু মিনুর দোকানে গেলে বলা হয়, টিএসপি নেই। অথচ কৃষি অফিসার বলেন, সার আছে। তাহলে আমরা কোথায় যাবো?’
বিসিআইসি সার ডিলার মজাহার আলী বলেন, ‘বরাদ্দ কম, চাহিদা বেশি। বাংলা ও তিউনিসিয়া টিএসপি ছাড়া অন্য সার সংকট নেই। তবে যতটুকু বরাদ্দ, ততটুকুই দেওয়া সম্ভব।’
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সজাগ রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে এবং মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, ‘সার নিয়ে কিছু এলাকায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম