
সংগৃহীত ছবি
ক্যান্সারের নাম শুনলেই অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। আমাদের সমাজে এখনও প্রচলিত ধারণা আছে, “ক্যান্সার মানেই মৃত্যু।” তবে বাস্তবতা ভিন্ন। আধুনিক চিকিৎসা ও সচেতনতার কারণে ক্যান্সার এখন আর মৃত্যুদণ্ড নয়। সময়মতো শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগী স্বাভাবিক জীবন ফিরে পান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সত্তরের দশক থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচার হার তিনগুণ বেড়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো রোগ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা। তবে সমস্যা হলো, প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে সেটাকে সাধারণ অসুখ ভেবে উপেক্ষা করা হয়।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো চেনা জরুরি
ঘন ঘন জ্বর: ক্যান্সার শরীরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়লে প্রায়ই জ্বর দেখা দেয়। ক্যান্সারে আক্রান্তরা প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় জ্বরে ভোগেন।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি: বিশ্রামের পরও সারাক্ষণ ক্লান্তি থাকলে এটি ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে এমন ক্লান্তি দেখা যায় শুরু থেকেই।
হঠাৎ ওজন কমা: কোনো কারণ ছাড়াই যদি পাঁচ কেজি বা তার বেশি ওজন কমে যায়, সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী, খাদ্যনালি বা ফুসফুসের ক্যান্সারে এ লক্ষণ বেশি দেখা যায়।
ত্বকের পরিবর্তন: শুধু ত্বকের ক্যান্সার নয়, আরও কিছু ক্যান্সারে ত্বকের রঙ পরিবর্তন, চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া (জন্ডিস), ত্বক লাল হওয়া বা চুলকানি দেখা দিতে পারে।
খাবার বা পানি গিলতে অসুবিধা: কয়েক দিন ধরে নিয়মিত খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট হলে গলা, পাকস্থলী বা খাদ্যনালির ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
টানা কাশি বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন: তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি চললে ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। কণ্ঠস্বরে হঠাৎ পরিবর্তন হলে স্বরযন্ত্র বা থাইরয়েড ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে।
অস্বাভাবিক রক্তপাত: কাশির সঙ্গে রক্ত থাকলে ফুসফুস, মলের সঙ্গে রক্ত থাকলে মলাশয়, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত থাকলে মূত্রাশয় বা কিডনির ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ু বা সার্ভিক্স ক্যান্সারেও অস্বাভাবিক রক্তপাত দেখা দিতে পারে।
মল-মূত্রের অভ্যাসে পরিবর্তন: দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা মলের আকারে পরিবর্তন হলে মলাশয়ের ক্যান্সারের ইঙ্গিত। প্রস্রাবের সময় ব্যথা, রক্তপাত বা হঠাৎ পরিমাণ পরিবর্তন মূত্রাশয় বা প্রোস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
ক্ষত দ্রুত না শুকানো: শরীর বা মুখে কোনো ক্ষত চার সপ্তাহের মধ্যে না শুকালে সেটিও ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
সতর্ক হওয়া জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেন, ক্যান্সারের প্রতি ভয় না পেয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বাঁচার মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: বিবিসি