প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:১২ পিএম আপডেট: ০৩.০৯.২০২৫ ১০:১৪ PM

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন নিজেদের প্রভাব বাড়াতে ক্রমেই নতুন বলয় গড়ে তুলছে। পশ্চিমাদের প্রতি নির্ভরতা কমিয়ে তারা এবার কাছে টানছে ভারত, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, ইরান ও ব্রাজিলের মতো অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোকে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে চাপের মুখে ফেলতে দ্বৈত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। কিন্তু এতে উল্টো সম্পর্ক আরও জটিল হয়। ট্রাম্প মোদিকে বারবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। বরং এ সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলোচনায় বসেন এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন।
রাশিয়া, চীন ও ভারত দীর্ঘদিন ধরে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-কে ন্যাটোর বিকল্প শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর আগে মোদি নিজে সম্মেলনে না গিয়ে প্রতিনিধি পাঠালেও এবার সরাসরি চীনের তিয়ানজিনে উপস্থিত হয়ে ব্যতিক্রম ঘটিয়েছেন। সাত বছর পর এটি ছিল তার প্রথম চীন সফর।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো মোদি-পুতিন-শি বৈঠককে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, ভারতের পাশে থাকা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের।
এসসিও সম্মেলনের পর পুতিনের সঙ্গে একই গাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা একান্তে আলাপ করেন মোদি। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমের দাবি, বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরালো করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এতে এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিই ভারত ও চীনকে কাছাকাছি আসতে সহায়তা করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে, যা তাদের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
কারণ বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হয়। কিন্তু রাশিয়া, চীন ও ভারত যদি ডলারের বিকল্প অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে এগোয়, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র।