প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:৫৮ পিএম আপডেট: ০২.০৯.২০২৫ ১০:০৯ PM

ফেনীর সুলতানপুরে দোকান ভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক মার্কেট মালিককে বাসায় ডেকে নিয়ে হেনস্তা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ ওরফে ফয়সাল এবং তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সময় মার্কেট মালিক প্রাণে রক্ষা পেলেও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন স্টাফকে মারধর করে আহত করা হয় এবং তাদের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আমিন গ্রুপ এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম ওরফে পারভেজ বাদী হয়ে গত ২৭ আগস্ট রাতেই ফেনী মডেল থানায় মামলা (নং-৪৫) করেন। মামলায় দু’জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০–৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ফয়সাল ফেনী শহরের কলেজ রোডে ফিরোজা সুলতানার পিতার মালিকানাধীন আমিন বিল্ডিং মার্কেটে চারটি দোকান ভাড়া নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতেন না। পরবর্তীতে মালিককে না জানিয়ে তিনটি দোকান ভেঙে মোটা অঙ্কের সিকিউরিটি নিয়ে “মস্কো বেকার্স” নামে প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেন।
এ বিষয়ে একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি সাড়া না দিয়ে উল্টো মালিকপক্ষকে হুমকি দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালান। বিষয়টি ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় মালিকপক্ষ আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
২৬ আগস্ট রাতে ফয়সালের বাসায় সমঝোতার কথা বলে ডেকে নেয়া হয় মার্কেট মালিক ফিরোজা সুলতানাকে। সেখানে তিনি ভাড়ার বকেয়া ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে ফয়সাল গালমন্দ ও অপমান করে বের করে দেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার অনুসারীরা ফিরোজা ও তার সহযোগীদের উপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা প্রাণে রক্ষা পান।
মার্কেট মালিক ফিরোজা সুলতানা বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতা ফয়সাল আমাদের পুরো মার্কেট দখল করে রেখেছে। দোকান ভাড়া দেয়নি, বরং প্রতারণা করে অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছে। আমার পরিবারকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।”
ফেনী মডেল থানার ওসি শামসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মার্কেট মালিকের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আতিক উল্লাহ ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর