
সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে সমাজকল্যাণ পরিষদের আয়োজিত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে নির্বাচন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে নানা বিতর্কিত চেষ্টার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। ছাত্রনেতা নূরের ওপর হামলাও তারই অংশ।
আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে সমাজকল্যাণ পরিষদের আয়োজিত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “ দেশের গণতন্ত্রকে বিপদাপন্ন করতে একটি মহল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন জীবন উৎসর্গ ও ত্যাগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে, আর এর লক্ষ্য ছিল কেবল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।”
ভারতে বসে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে তিনি সতর্ক করে বলেন, “সাবধান! ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের জবাব দিতে হবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এর কোনো বিকল্প নেই।”
দুদু বলেন, “জুলাইয়ের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামণা করি। যারা আহত হয়েছেন, চিরজীবনের জন্য অঙ্গহানি করেছেন তাদের জন্য দোয়া করি।”
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, “এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষণায়। সেই মুক্তিযুদ্ধকে যারা বিরোধিতা করেছে, তারা ওই মুক্তিযুদ্ধ মেনে নিতে পারে নাই। যারা ওই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে হত্যা করেছে, তাদের বয়ান ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এটি দ্বিতীয় স্বাধীনতা; যা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং ২০২৪ ও ১৯৯০ সালের আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধকে সমৃদ্ধ ও গৌরবান্বিত করেছে। এটি ইতিহাসের একটি মহান ঘটনা।”
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, গত ১৭ বছরে দলের প্রায় পাঁচ হাজার নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন। এছাড়াও আন্দোলনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “একজন মা সন্তান ধারণ করলে তার নয় মাসের যে কষ্ট, সেটি একজন নার্স কখনো দাবি করতে পারে না। সেই সব কিছুর চূড়ান্ত অধিকারী মা, কিন্তু নার্সদেরও ভূমিকা থাকে। এক মাসের আন্দোলনে অনেকটা নার্সদের ভূমিকা রয়েছে। আমাদের সন্তানরা, যুবকরা, শ্রমিক, কৃষকরা, খেটে খাওয়া মানুষ- তারা রাস্তায় জীবনকে উৎসর্গ করেছে, ১৬ বছরের আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করার জন্যে, সমাপ্তির জন্যে। সেটা কিসের জন্য? গণতন্ত্রের জন্য।”
শামসুজ্জামান দুদু ড. ইউনুসকে সমর্থন দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ফেব্রুয়ারিতেই ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরী গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে লালন করা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ প্রশস্ত হবে।”
আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিবুর রহমান হাবিব, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জাতীয়তাবাদী চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবিরসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।