প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ২:৪৩ AM

বাংলাদেশে বায়ুদূষণ দেশের মানুষের গড় আয়ু কমার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নতুন এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স (AQLI) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র বায়ুদূষণের কারণে দেশের মানুষের গড় জীবনকাল প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর হ্রাস পাচ্ছে। তুলনায় ধূমপান গড়ে দুই বছর এবং শিশু ও মাতৃকালের পুষ্টিহীনতা ১.৪ বছর জীবনকাল কমিয়ে দেয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বস্তুকণা দূষণ (PM2.5) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ৫ মাইক্রোগ্রাম পার কিউবিক মিটার মান পূরণ করলে একজন বাংলাদেশি গড়ে সাড়ে পাঁচ বছর দীর্ঘজীবী হতে পারতেন। দেশের সবচেয়ে দূষিত এলাকা—গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা—এ একজন বাসিন্দার জীবনকাল প্রায় সাড়ে ৬ বছর হ্রাস পাচ্ছে।
বাংলাদেশে মোট ১৬ কোটি ৬৮ লাখ মানুষ এমন অঞ্চলে বসবাস করছে, যেখানে বার্ষিক গড় বস্তুকণা দূষণ WHO নির্দেশিকা এবং দেশের জাতীয় মান (৩৫ মাইক্রোগ্রাম পার কিউবিক মিটার) ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে কম দূষিত জেলা লালমনিরহাটেও কণা দূষণ WHO নির্দেশিকার সাতগুণ বেশি।
১৯৯৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কণা দূষণের মাত্রা ৬৬.২ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে মানুষের জীবনকাল আরও ২.৪ বছর কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রামে দূষণ দেশের জাতীয় মান অনুযায়ী হ্রাস করলে জীবনকাল যথাক্রমে ৪.১ ও ৩.৩ বছর বাড়তে পারতো।
দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কবার্তা রয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে বায়ুদূষণ ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ুদূষণের কারণে মানুষের গড় আয়ু ৩ বছর এবং সবচেয়ে দূষিত এলাকায় ৮ বছরেরও বেশি হ্রাস পাচ্ছে।
এছাড়া প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রাকৃতিক দাবানলের কারণে বায়ুর মান খারাপ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দাবানলের ঘনত্ব ও পুনরাবৃত্তি বেড়েছে, যা পূর্বে অর্জিত স্বচ্ছ বাতাসের অগ্রগতি বিপরীতমুখী করছে।
এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্সের পরিচালক তনুশ্রী গাঙ্গুলি বলেন, “এখনও বায়ুদূষণই বিশ্বের মানুষের জীবনকাল হ্রাসের প্রধান কারণ। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করলে স্থানীয়ভাবে বায়ুর মান উন্নত হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়ক হবে। এজন্য দেশগুলোর সঠিক তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ