প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫, ১০:২৩ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশ ক্যাম্পে সশস্ত্র ডাকাতদের হামলা ও গোলাগুলির ঘটনায় নয়ন–পিয়াস–রিপন বাহিনীর প্রধান রিপন সরকারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— রিপন সরকার (৪৫), মো. হারুন মেম্বার (৫০) এবং জামিল উদ্দিন মাসুম (৪০)। তারা গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব-১১-এর অপারেশন অফিসার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোর্শেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে ২৭ আগস্ট রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকার গাংচিল হোটেল থেকে মো. হারুন মেম্বারকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত তিনটার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে জামিল উদ্দিন মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন (২৮ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাহিনীর প্রধান রিপন সরকারকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে চারটি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
উল্লেখ্য, রিপনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ২৩টি মামলা রয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে গজারিয়ার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায় নয়ন–পিয়াস–রিপন বাহিনীর প্রায় ৩০–৪০ জন সশস্ত্র সদস্য। তারা ট্রলারযোগে এসে পুলিশ ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে উভয় পক্ষ থেকে শতাধিক গুলি বিনিময় হয়। পরে পুলিশের প্রতিরোধে টিকতে না পেরে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনীর সদস্যরা মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, নৌযানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তাদের ভয়ে শতাধিক পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ জামালপুর গ্রামে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে।
হামলার ঘটনায় পুলিশের এসআই সৈয়দ আজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব অভিযান চালিয়ে রিপনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর