প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৫৩ পিএম আপডেট: ২৬.০৮.২০২৫ ১১:২৮ PM

নিহতদের পরিবার
ছেলের ছবি হাতে নিয়ে নীরবে কাঁদছেন মা আন্না খাতুন। চোখের সামনে প্রিয় সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলেও বিচার পাওয়া নিয়ে তার গভীর শঙ্কা রয়েছে। কারণ, হত্যার মামলার এক আসামি ইতোমধ্যে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন। অন্য আসামিরাও দ্রুত দেশত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি বাকি আসামিদের কঠোর শাস্তি চাইছেন।
একই ঘটনায় লাল্টুর পরিবারও শোকের মধ্যে রয়েছে। স্বামীকে চোখের সামনে কুপিয়ে হত্যার পর স্ত্রী জেসমিন খাতুন এখন দুই সন্তান নিয়ে কষ্টের জীবন যাপন করছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্বামীর হত্যাকারীরা বিদেশে চলে গেলে তারা কখনও বিচার পাবেন কিনা, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবুও তিনি স্বামীর হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চাইছেন।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ মে শৈলকুপা উপজেলার ধূলিয়াপাড়া গ্রামের ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শেষবর্ষের ছাত্র অভি ও তার চাচাতো ভাই লাল্টুকে বাড়ির উঠানে জোটবদ্ধভাবে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ৫২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে বিচারাধীন।
অভিযুক্তরা বিদেশ গমনে মরিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার ১৯ নম্বর আসামি হোসেন আলী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন।
জানা গেছে, আরও কমপক্ষে ২০ জনের পাসপোর্ট প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো সময় দেশত্যাগ করতে পারেন।
হত্যার শিকার অভির বাবা লুৎফর রহমান বলেন, “প্রকাশ্যে ছেলেকে হত্যা করা হলো। মামলাটি চলমান। অভিযুক্তরা বিদেশে চলে গেলে আদৌ বিচার পাবো কিনা সেই শঙ্কা আছে।”
অভির ভাই পলাশ বলেন, “অভি ও লাল্টু রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। বাড়ির উঠানে এসে তাদের হত্যা করা হলো। যারা এখনো যেতে পারেনি, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান জানিয়েছেন, গুরুতর মামলার অভিযুক্তরা আদালতের আদেশ নিয়ে চিকিৎসা বা ধর্মীয় বিষয় দেখিয়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিলে থানা পুলিশের কিছু করার থাকে না।