প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ৭:২৮ পিএম

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসানকে চার মামলায় দণ্ডিত করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। মামুন হাসান আত্মসমর্পণ করে আলাদা চার মামলায় জামিন আবেদন করেছিলেন, তবে তিন বিচারক আলাদা শুনানি নিয়ে তার আবেদন নাকচ করেছেন। মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ২০২৩ মামুনকে মিরপুর মডেল থানার এক মামলায় দেড় বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ৮ নভেম্বর ২০২৩ একই থানার দুটি দ্রুত বিচার আইনের মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১২ নভেম্বর ২০২৩ আরেক মামলায় আড়াই বছরের কারাদণ্ড এবং ২ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাভোগের নির্দেশ দেয়া হয়।
আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম আদালতে বলেন, মামুন হাসান রাজপথ থেকে বেড়ে ওঠা একজন জনপ্রিয় নেতা, যার বিরুদ্ধে ২৮৬টি মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাদের হয়রানি করছে।
আদালতে মামুন হাসান নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন এবং বলেন, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা আমাকে অসংখ্য মামলা দিয়ে হয়রানী করেছেন। কিন্তু সত্যের বিজয় হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আমার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হবে এবং আমি ন্যায় বিচার পাব।
মামুন হাসানের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন হাজারো নেতাকর্মী, যারা তার মুক্তির জন্য বিভিন্ন স্লোগান দেন। আদালতের বাইরে তিনি নেতাকর্মীদের পুলিশকে কাজ করতে দেওয়ার আহ্বান জানান।
মামুন হাসান জানিয়েছেন, তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে শীঘ্রই জামিনে মুক্তি পাবেন। মামুনের পক্ষের আইনজীবী বলেন, তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন দায়িত্বশীল নেতা এবং নির্বাচনেও ঢাকা-১৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে অংশগ্রহণ করবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ